রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস (RSS) এর নতুন সরকার্যবাহ অর্থাৎ সাধারণ সম্পাদক হলেন দত্তাত্রেয় হোসাবালে।  সুরেশ 'ভাইয়াজি' যোশীর জায়গায় নিযুক্ত হলেন তিনি। ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন 'ভাইয়াজি' যোশী। হোসাবালের সামনের পথটা অবশ্য বেশ কঠিন। সামনেই রয়েছে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৫-এ আরএসএসে-এর শতবর্ষ উদযাপনের মতো কঠিন কর্মসূচি।

শনিবার, আরএসএসের শীর্ষস্থানীয় কর্মীদের বার্ষিক বৈঠক, অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় এক অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের পর ভাইয়াজি যোশীর জায়গায় ৬৫ বছরের হোসাবালেকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাধারণত এই বৈঠক আরএসএস-এর সদর দফতর নাগপুরেই হয়। কিন্তু মহারাষ্ট্রে কোভিড মহামারির পুনরুত্থানের প্রেক্ষিতে এইবার প্রতিনিধি সভা বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ ও ২০ মার্চ - দুদিন ধরে চলা এই বৈঠকে আরএসএস-এর নতুন জাতীয় দল গঠন করা হয়।

একনজরে আরএসএস-এর নবগঠিত জাতীয় দল -

সরসঙ্ঘ চালক - মোহন ভাগবত

সরকার্যবাহ - দত্তাত্রেয় হোসাবালে

সহ সরকার্যবাহ

মনমোহন বৈদ্য
কৃষ্ণ গোপাল
সি আর মুকুন্দ
অরুণ কুমার
রাম দত্ত চক্রধর

শারীরিক প্রমুখ -

সুনীল কুলকারনী

সহ শারীরিক প্রমুখ -
জগদীশ প্রসাদ

বৌদ্ধিক প্রমুখ -
স্বন্ত রঞ্জন

সহ বৌদ্ধিক প্রমুখ
সুনীল ভাই মেহতা

সেবা প্রমুখ -
পরাগ অভ্যঙ্কর

সহ সেবা প্রমুখ
রাজকুমার মাঠালে

সম্পর্ক প্রমুখ
রামলাল

সহ সম্পর্ক প্রমুখ
রমেশ পাপা
সুনীল দেশপাণ্ডে

প্রচার প্রমুখ -
সুনীল আম্বেকর

সহ প্রচার প্রমুখ
নরেন্দ্র ঠাকুর
অলোক কুমার

১৯৬৮ সালে আরএসএস-এ যোগ দিয়েছিলেন দত্তাত্রেয় হোসাবালে।তারপর তারপরে ১৯৭২ সালে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৭৫-১৯৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সক্রিয় প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মিশা বা অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ আইনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে তিনি এবিভিপি-র পূর্ণ-সময়ের কর্মী হন। একটানা ১৫ বছর তিনি এবিভিপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আরএসএস-এ তিনি পরিচিত 'দত্তাজি' নামে।

আরও পড়ুন - ঘুষের বিনিময়ে প্রার্থীপদ, ব্রাত্য ওবিসি নেতা - কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রায়গঞ্জে

আরও পড়ুন - মমতার প্রকল্প কি সত্যিই মোদীর প্রকল্পের থেকে ভালো, না কি বঞ্চিত বাংলার মানুষ, দেখুন

আরও পড়ুন - তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহার - প্রশ্নের মুখে 'দিদির অঙ্গীকার', উত্তর খুঁজছে বাংলার জনতা

কর্ণাটকের শিমোগা জেলার সোরাব-এ জন্মেছিলেন তিনি। বেঙ্গালুরুর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। কন্নড়, হিন্দি, ইংরেজি, তামিল এবং সংস্কৃত-সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় তিনি সাবলীল।  মোদী সরকারের এনআরসি এবং এনইপি নীতিগুলির একজন কট্টর সমর্থক তিনি। তবে, তাঁর মতে ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতা আসলে 'হিন্দুবিরোধী'।