গরীবদের হাতে সরাসরি নদগ অর্থ তুলে দিলে বিদেশে সরকার তথা ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ভয় পাচ্ছে মোদী সরকার। মঙ্গলবার এক অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই গুরুতর অভিযোগ করলেন কংগ্রেস-এর প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি আরও বলেন মোদী সরকারের আত্মনির্ভর ভারত আর্থিক উদ্দীপনা প্যাকেজে কিচ্ছু লাভ হবে না। দেশে চরম আর্থিক সংকট নেমে আসতে চলেছে।

৩০ জানুয়ারি ভারতে প্রথম করোনাভাইরাস রোগীর সন্ধান মিলেছিল। তারপর ফেব্রুয়ারি মাসেই লোকসভায় রাহুল গান্ধী করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য সংকট ও তার প্রত্যক্ষ ফল হিসাবে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিলেন। এদিন সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তারপর প্রায় সাড়ে তিন মাস কেটে গেলেও এই বিষয়ে তাঁর অবস্থান এতটুকু বদলায়নি।

বরং, এখন তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলছেন, যদি আর্থিক সমর্থন না দেওয়া হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে রক্ষা না করা হয়, তাহলে দারুণ গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে দেশ। তাঁর মতে সেই সংকটের কিছুই এখনও প্রকট হয়নি, 'প্রথম চ্যাপ্টারই শুরু হয়নি'। তাই যে সতর্কতা তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিয়েছিলেন, সেই একই সতর্কতা তিনি এখন আবার দিচ্ছেন।

সেইসঙ্গে তিনি 'প্রীতি ও শ্রদ্ধা'র সঙ্গে সরকাররের কাছে আবেদন করেছেন, আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার। তাঁর মতে সরকারকে 'ক্যাশ ইনজেকশন' অর্থাৎ আর্থিক প্রকল্পগত সুযোগ সুবিধা নয়, বাজার অর্থনীতিতে সরাসরি নগদ অর্থায়ন করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে দুই হাতে আগলাতে হবে। এতটুকু দ্বিধা না করে তিনি বলেছেন, 'নরেন্দ্র মোদী যে আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছেন, তাতে কিছুই হবে না'।

এরপরই তিনি বলেন সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তাঁর অপ্রত্যক্ষভাবে অল্পবিস্তর কথাবার্তা হয়ে থাকে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হল, যদি অনেক বেশি টাকা গরীব মানুষদের বা শ্রমিকদের হাতে দেওয়া হয়, তাবলে বাইরের দেশে ভারত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হবে। ভারতের রেটিং খারাপ হয়ে যাবে।

রাহুল বলেন, ভারতের শক্তি বাইরের দেশে তৈরি হয় না। বাইরের দেশে ভারতের ভাবমূর্তি তৈরি হয় না। ভারকতের শক্তি, ভারতের ভাবমূর্তি দেশের মাটিতেই তৈরি হয়। দেশ ভিতর থেকে শক্তিশালি হলে, বাইরের লোক তা দেখতেই পাবে। তাই দেশের শক্তিকে সুরক্ষিত করতে হবে।

তার জন্য রাহুল মনে করেন, ভারতের ৫০ শতাংশ জনসংখ্যা, যারা আর্থিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল, তাদের হাতে সরাসরি নদগ অর্থ দিতে হবে। রাহুলের মতে এই অংশের লোকদের মাসে মাসে ন্যুনতম ৭৫০০ টাকা করে দিতে হবে। কারণ এরাই দেশের আসল শক্তি, দেশের অন্তরাত্মা। বিদেশিরা কী ভাবল, তা নিয়ে এখন ভাবার সময় নেই। সেইসব পরে ভাবা যাবে।