দেরাদুনে সারারাত ধরে প্রবল বৃষ্টির ফলে তমসা নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। এর জেরে ঐতিহাসিক টপকেশ্বর মহাদেব মন্দিরের একাংশ জলের তলায়। এই বর্ষার কারণে গাড়োয়াল ডিভিশনে জনজীবন বিপর্যস্ত, রাস্তা বন্ধ এবং সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে একটানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সারারাত ধরে বৃষ্টির পর তমসা নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। নদীর জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে দেরাদুনের বিখ্যাত টপকেশ্বর মহাদেব মন্দির। সারারাত ধরে প্রবল বর্ষণের পর, ঐতিহাসিক টপকেশ্বর মহাদেব মন্দিরের চত্বর তমসা নদীর জলে থইথই করছে। নদীর জল তার স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে মন্দিরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে পড়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে। একটি গাছ ভেঙে পড়ে কাছাকাছি থাকা কয়েকটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
গাড়োয়াল ডিভিশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল ডিভিশনের পাহাড়ি এলাকায় একটানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। প্রধান নদীগুলির জলস্তর বাড়তে থাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গাড়োয়ালের কমিশনার আনন্দ স্বরূপ এর আগে জানিয়েছিলেন, এই বর্ষাকালে দুর্যোগ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "এখানে প্রবল বর্ষা চলছে। যেহেতু এটি দুর্যোগপ্রবণ বর্ষাকাল, তাই বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে এবং সমস্ত প্রধান নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।"
প্রধান হাইওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ
এই সপ্তাহের শুরুতে, তেহরি গাড়োয়ালের জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক (DDMO) ব্রিজেশ ভাট জানান যে, একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে তেহরি গাড়োয়ালের ডিমটা বেন্ডের পর জাতীয় সড়ক-৭০৭এ (কেম্পটি-যমুনপুল) সম্পূর্ণভাবে ভেসে গেছে। এএনআই-কে তিনি আরও জানান যে, ডিমটা বেন্ড এবং জীবন আশ্রমের মধ্যে রাস্তা ধুয়ে যাওয়ার কারণে এনএইচ-৭০৭এ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাড়িগুলিকে মুসৌরি বেন্ড হয়ে বিকাশ নগরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, "এদিকে, দেবপ্রয়াগের কাছে ঋষিকেশ-কীর্তিনগর রুটে ধ্বংসস্তূপের কারণে এনএইচ-০৭ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া, আটটি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY) এবং সাতটি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (PWD) রোডও ধ্বংসস্তূপ জমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।"
নদীর জল বাড়ায় সতর্কতা জারি
উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল ডিভিশনের পাহাড়ি এলাকায় একটানা বৃষ্টির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। এই অঞ্চলে প্রবল বর্ষা চলছে, যার ফলে প্রধান নদীগুলির জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গেছে। দেরাদুনেও তমসা, টোনস এবং আসান নদীর জলস্তর বেড়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে রিস্পানা নদীতেও জল বইছে। আধিকারিকদের মতে, কিছু এলাকায় দৈনিক বৃষ্টিপাত ২০০ মিমি ছাড়িয়ে গেছে। এই বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বাসিন্দা ও তীর্থযাত্রীদের জন্য নির্দেশিকা
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করার জন্য নিয়মিত ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মানুষকে নদীর পাড়ে না যেতে এবং নদীর কাছে সেলফি তোলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া বা রাস্তার অবস্থার কারণে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে, সাধারণ মানুষ এবং তীর্থযাত্রীদের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি বা রাস্তাঘাটের ক্ষতির কারণে যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ হলে তীর্থযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন।


