দিল্লি বিধানসভা ২০২০-র ভোটে মেরুকরণ করতে চেয়েছিল বিজেপি। এতে কোনও সন্দেহ নেই। সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে সরাসরি না হলেও, নাহরিকত্ব আইনের প্রশ্নে দিল্লির ভোটে মেরুকরণ চেয়েছিল তো বটেই। খোলাখুলি অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদীরা জনসভায় বলেছেন, ইভিএম-এ স্পষ্ট করে দিতে হবে  আপনি শাহিনবাগ-এর পক্ষে না বিপক্ষে। তবে এর আড়ালে ছোট-মাঝারি মাপের নেতাদের দিয়ে 'ভারত-পাকিস্তান'এর লড়াই', 'গোলি মারো', 'মুঘলরাজ ফিরে আসবে'-র মতো মন্তব্য করিয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টাও ছিল। কিন্তু ইভিএম-এ তা কিন্তু আখেড়ে বুমেরাং হয়ে গেল গেরুয়া শিবিরের জন্য

কয়েকটা পরিসংখ্যান দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ওখলা আসন থেকে আম আদমি পার্টির বিশিষ্ট মুসলিম নেতা আমানতউল্লা খান ৯১,০০০-এরও বেশি বোটে জয়ী হয়েছেন। ওখলা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাই শুধু নয় এই কেন্দ্রের মধ্য়েই পড়ে শাহিনবাগ ও জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। যে দুই জায়গা-কে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র বলা যায়। এই আসন থেকে আমানতউল্লা খানের জয় মোটেই বিস্ময়কর নয়। ২০১৫ সালেও আমানতউল্লা-ই জিতেছিলেন। কিন্তু, সেইবার তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৬৫,০০০। অর্থাৎ, এইবার জয়ের ব্যবধান বেড়েছে ২৬,০০০-এরও বেশি।

আবার সিএএ বিরোধী আন্দোলন-কে কেন্দ্র করে যে সিলামপুর-এ হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই সিলাম পুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আপ প্রার্থী আবদুল রহমান জয়ী হয়েছেন বিজেপির দক্ষ মিশ্র-কে পরাজিত করে। গতবার আপ প্রার্থী এখানে ৫১.২৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন আর কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ২১.২৮ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেসের ভোটের প্রায় সবটাই চলে এসেছে আপ-এর ঝুলিতে। সিলামপুর-ও একটি মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসবা কেন্দ্র।

দুটি উদাহরণ থেকে সম্পূর্ণ চিত্রটা স্পষ্ট না হলেও প্রবণতাটা বোঝা সম্ভব। এটা বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপি-র একটানা মেরুকরণের প্রচেষ্টায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পক্ষে ভোট দিয়েছে। মুসলিম ভোট সংহত হয়েছে আম আদমি পার্টির পক্ষে । কিন্তু, অপরদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটে এতটা মেরুকরণ ঘটেনি। নাহলে ফলাফল বিজেপি-র পক্ষে এতটা হতাশাজনক হত না। বরং, অধিকাংশ জায়গাতেই কেজরিওয়াল, তাঁর 'সফট হিন্দুত্ব' (হনুমান চল্লিশা পাঠ ও হনুমান মন্দিরে পূজো দেওয়া)-এর রাজনৈতিক ভারসাম্য ও তাঁর কাজের জোরে হিন্দু ভোট ধরে রেখেছেন।