এমনিতেই দিল্লির করোনা পরিস্থিতি প্রশাসনের কপালে লম্বা চিন্তার ভাজ ফেলেছে। এর মধ্যেই রাজধানীতে জারি হল জঙ্গি হামলার সতর্কতা। এনসিআর এলাকায় ৪ জইশ জঙ্গি ঢুকে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপরেই দিল্লির সীমানা এলাকায় নাকা তল্লাশি শুরু হয়েছে। রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনেও তল্লাশি চলছে।

গোয়েন্দাদের কাছে খবর এসেছে, রাজধানীতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঠক কষেছে সন্ত্রাসবাদীরা। তারপর থেকেই হাই অ্যালার্টে রয়েছে দিল্লি। কয়েকগুণ বাড়ান হয়েছে শহরের নিরাপত্তা। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাকে করে ৪-৫ জন জঙ্গির অনুপ্রবেশ ঘটেছে রাজধানীতে। কাশ্মীর থেকে এই জঙ্গি দলটি  দিল্লিতে ঢুকেছে।

জঙ্গি দলটি মূলত গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছে বলেই পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। তারপর থেকেই বিভিন্ন গেস্ট হাউস, হোটেলে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে পুলিশ।  দিল্লির সব ভাড়াটের নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নতুন ভাড়াটে এলে জানাতে হবে পুলিশকে।  

বিভিন্ন গাড়িতে, বিশেষ করে যে সব গাড়িতে জম্মু কাশ্মীরের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে, সেগুলিতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জারি হয়েছে লুক আউট নোটিশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে চলছে পুলিশি টহল। এক কথায় গোটা রাজধানী এখন কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। 

গত বছর অক্টোবরেও দিল্লিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার খবর এসেছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই সময়ই শহর  জুড়ে অ্যালার্ট জারি করা হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গিদের সমস্ত চক্রান্ত ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। 

এদিকে গত কয়েকমাস হল জম্মু-কাশ্মীরে লাগাতার জঙ্গি দমন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বাহিনী। তাতে বড়সড় সাফল্যও মিলেছে। লস্কর ই তইবা, জইশ ই মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিন ও আনসার গাজওয়াত উল হিন্দ জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের একাধিক নেতাকেও খতম করা সম্ভব হয়েছে অভিযানে। জম্মু-কাশ্মীরে ধাক্কা খাওয়ার পর  এবার তাই দিল্লির দিকে জঙ্গিরা হামলার চালানোর নতুন ছক কষছে বলেই আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।