মঙ্গলবার রাতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রার এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার, যদিও কলকাতায় এর জোরাল প্রভাব অনুভূত হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

Kolkata Earthqueak: মঙ্গলবার রাত ৯ টা নাগাদ কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ বেশ কিছু জায়গা। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ জোড়াল ভূমিকম্প অনুভূত হল কলকাতা শহরে। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬.৪। এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। প্রাণহানির খবরও মেলেনি। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে যে, এই কম্পনের উৎস মায়ানমারে। কলকাতা থেকে উৎসস্থলের দূরত্ব বেশি হলেও কলকাতায় বেশ জোড়াল কম্পন অনুভূত হয়েছে। বেশে পরপর কয়েকবার ভূকম্পনের জেরে কেঁপে উঠেছে কলকাতার পার্শ্ববর্তী এলাকা। যারে জেরে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন একাংশ।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল-

জানা গিয়েছে এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল হল মায়ানমারের আকিয়াব থেকে ৭০ মাইল পূর্ব দিকে এবং উৎসের গভীরতা ১০ কিলোমিটার। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই নিয়ে তৃতীয়বার মায়ানমারে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হল । রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.৬। গত সোমবারই ৪.৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। সেই কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার নীচে। কলকাতা ভূমিকম্পপ্রবণ না হলেও আশপাশের কম্পনে মাঝেমধ্যেই কেঁপে ওঠে কলকাতা-সহ এরাজ্যের জেলাগুলি। আজকের কম্পনে এখনও পর্যন্ত মায়ানমারের এই ভূমিকম্পে হতাহতের কোনও খবর নেই।

ভূমিকম্পের মাত্রা-

ইউরোপিয়ান মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিকাল সেন্টারের দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, গত সোমবারই ৪.৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয় সেই কম্পন। সেই কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার নীচে। এছাড়া, নভেম্বর মাসে ঠিক এভাবে কেঁপে উঠেছিল কলকাতা। সেবার ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ২৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঘোড়াশালের কাছে। আর এবার সেই উৎসস্থল সরে গিয়ে হল মায়ানমারে।

কলকাতা কী তবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা-

বিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয় পাদদেশ থেকে দূরত্বের নিরিখে এমনিতেই শহর কলকাতা ভূমিকম্প বা মৃদু ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। তবে কলকাতায় বড় মাপের ভূমিকা হলে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে। তার অন্যতম কারণ কলকাতা নরম কাদামাটির উপর দাঁড়িয়ে। সেই অবস্থায় মাটির নীচে তোলপাড় হলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। এছাড়া শহরেরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই প্রাণহানির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।