ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা সুবিদিত। কিন্তু, ট্রাম্প সমর্থকদের আচরণে তিনি 'পীড়িত' বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনে, ক্যাপিটল ভবনে ৪ ঘন্টা ধরে ধুন্ধুমার চালায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা। অবৈধ বিক্ষোভের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা যায় না বলে দাবি করে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, 'সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অব্যাহত রাখতে হবে'।

এদিন এই বিষয়ে একটি টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, 'ওয়াশিংটন ডিসিতে দাঙ্গা এবং হিংসার খবর দেখে আমি পীড়িত। সুশৃঙ্খলভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অব্যাহত রাখতে হবে। অবৈধ প্রতিবাদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা যাবে না,'। নিঃসন্দেহে এটাই গণতন্ত্রের সারকথা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিবৃতি দিলেও, কোথাও কি প্রধানমন্ত্রী ভারতের কোনও অঙ্গরাজ্যের জন্যও একই বার্তা দিলেন কি?

তবে, শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদীই নন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হিসাবে পরিচিত ব্রিটেন সহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানরাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন টুইট করেছেন, 'মার্কিন কংগ্রেসে লজ্জাজনক দৃশ্য। বিশ্বজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিচয় গণতন্ত্র এবং সেখানে এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর হওয়া জরুরি'।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, 'আমাদের নিকটতম মিত্র ও প্রতিবেশী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের উপর আক্রমণে কানাডিয়ানরা গভীরভাবে বিচলিত ও দুঃখিত। হিংসা কখনই মানুষের মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্যই গণতন্ত্র ফেরাতে হবে, এবং তা হবেই'।

অন্যদিকে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এই ঘটনার জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই দায়ী করেছেন। টুইটারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে তিনি বলেন, মার্কিন ক্যাপিটালে হিংসাত্মক হামলা ট্রাম্পের প্ররোচনাতেই হয়েছে। ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে ভিত্তিহীনভাবে মিথ্যা বলে চলেছেন বলেও জদাবি করেন তিনি। ক্যাপিটলে হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অসম্মান ও লজ্জার মুহূর্ত বলেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।

বুধবার, মার্কিন রাষ্ট্রপতি-নির্বাচিত জো বাইডেন এবং সহ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী জয়ে সিলমোহর দেওয়ার জন্য, ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট গণনা করার কথা ছিল মার্কিন কংগ্রেসে। সেই অধিবেশন চলাকালীনই ক্যাপিটল বিল্ডিং অর্থাৎ মার্কিন সংসদে হামলা চালায় ট্রাম্পপন্থীরা। মার্কিন ক্যাপিটলে লকডাউন জারি করা হয়। ট্রাম্পপন্তীদের সঙ্গে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ ঘন্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। ট্রাম্পপন্থী দাঙ্গাবাজরা সংসদ ভবনে ভাঙচুর চালায়, এমনকী সেনেটের মূল চেম্বারেও ঢুকে পড়ে। এরই মধ্যে এক মহিলার মৃত্যুও হয়।