মহারাষ্ট্রে মহানাটক। আস্থা ভোটের আগে আরও চাপে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার। যাঁর ভরসায় মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, সেই অজিত পাওয়ারই এবার উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।  ফড়নবীশেক কাছে অজিত ইতিমধ্যেই নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে খবর। কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পরেই অজিতের ইস্তফায় ফের তাঁর এনসিপি- তে ফেরার সম্ভাবনা জোরাল হল। আর অজিতের ইস্তফার পরই মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশও ইস্তফা দিতে পারেন বলে বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর। এ দিন বিকেল সাড়ে তিনটেয় সাংবাদিক বৈঠক করার কথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানেই তিনি পদত্যাগের কথা ঘোষণা করতে পারেন। আস্থা ভোটে সম্ভাব্য পরাজয়ের আঁচ পেয়েই ফড়নবীশ পদত্যাগ করতে চলেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই এ দিন অজিতের সঙ্গে বৈঠক করেন শরদ পাওয়ার। অজিত নিজেই শরদ পাওয়ারের বাসভবনে যান। সেখানে হাজির ছিলেন সুপ্রিয়া সুলে, প্রফুল্ল পটেল এবং জয়ন্ত পাটিলের মতো এনসিপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই সব ভুলে অজিতকে দলে ফিরতে অনুরোধ করেছেন শরদ পাওয়ার। তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে অজিতকে। 

আরও পড়ুন- বুধবার মহারাষ্ট্রে আস্থা ভোটের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সঙ্কটে ফড়নবীশ সরকার

আরও পড়ুন- তিরিশ মিনিটেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ, বিজেপি-কে হুঁশিয়ারি দিলেন সোনিয়া

অজিতের ভরসাতেই সরকার গঠন করেছিল বিজেপি। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনিই ছিলেন বিজেপি-র শেষ ভরসা। সেই অজিতকেই যদি দলে ফেরানো যায়, সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বুধবারের আস্থা ভোটে বিজেপি-র জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। সেই অঙ্ক কষেই পুরনো সব বিবাদ ভুলে ভাইপো অজিতকে কাছে টেনে নিলেন শরদ পাওয়ার। 

অন্যদিকে আস্থা ভোটের আগে নিজেদের রণকৌশল ঠিক করতে এ দিন বিকেল পাঁচটায় ফের একবার বৈঠকে বসতে চলেছে এনসিপি, শিবসেনা এবং কংগ্রেস। নিজেদের সব বিধায়ককে ধরে রাখাই এখন তিন দলের কাছে  চ্যালেঞ্জ। প্রবল চাপের মধ্যেও হাল ছাড়ছে না বিজেপি নেতৃত্ব। শীর্ষ আদালতের রায়ের পরে সংসদ ভবনে দলের কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।