বালাসোর উপকূল থেকে নিক্ষেপ করা হল নির্ভয় মিসাইল৮ মিনিট যেতে না যেতেই টেপা হল কিল সুইচসলিল সমাধি ঘটল মিসাইলটিরসোমবার সকালে ঠিক কী ঘটল বঙ্গোপসাগরে 

সোমবার ঠিক সকাল সাড়ে দশটায় ওড়িশার বালাসোর উপকূল থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল নির্ভয় সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল। কিন্তু ৮ মিনিট যেতে না যেতেই ঘটল গন্ডোগোল। বিপদ বুঝে টেপা হল কিল সুইচ। কী ঘটল বঙ্গোপসাগরে?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই মাসের গোড়াতেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, সপ্তম পরীক্ষার পরই ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীতে ডিআরডিও-র তৈরি এই সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি যোগ করা হবে। এদিন ক্ষেপণাস্ত্রটির সেই সপ্তম পরীক্ষাই ছিল। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু, আট মিনিট বাদে একটি 'অপ্রত্যাশিত বাধা' আসায় পরীক্ষা প্রক্রিয়া মাঝপথেই বাতিল করে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআরডিও-র কর্মকর্তারা।

ইতিমধ্যেই, ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই রকেট বুস্টার ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অস্ত্রাগারে যোগ করার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল যার মাথায় আছেন স্বয়ং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই সীমিত সংখ্যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র, ভারত ও চিনের মধ্যের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি-তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১০০০ কিমি স্ট্রাইক রেঞ্জের অত্যাধুনিক 'নির্ভয়' সাবসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি ০.৭ ম্যাচ গতিতে ধেয়ে যায় লক্ষ্যের দিকে। এটি সহজে শত্রুপক্ষের রেডারে ধরাও পড়বে না। একটি শক্ত রকেট মোটর বুস্টার দিয়ে এটা চলে। রয়েছে টার্বো-ফ্যান ইঞ্জিন-ও। আর নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত করার জন্য এতে দেওয়া হয়েছে একটি উচ্চমানের ইনরশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম।

নির্ধারিত উচ্চতা এবং গতি অর্জনের পরে বুস্টার মোটরটি ক্ষেপণাস্ত্রটি থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর টার্বো-ফ্যান ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। আর এতে থাকা কম্পিউটার উড়ানের সময় ইনরশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রটির পথ স্থির করে।

এদিনের পরীক্ষা মাঝপথে বাতিল করতে হলেও গত বুধবার ভারত সাফল্যের সঙ্গে ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রাহ্মোস নিক্ষেপ করেছিল। ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২.৮ ম্যাচ গতিবেগে ছুটে গিয়েছিল নির্দিষ্ট লক্ষে, যা শব্দের গতিবেগের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে। এটি সাবমেরিন, জাহাজ, বিমান বা ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে।