Energy Security: বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতে ভারত এখন বিকল্প বাণিজ্য পথের দিকে নজর দিচ্ছে। এই নতুন রুট ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বদলে দিতে পারে।
Energy Security: বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতে ভারত এখন বিকল্প বাণিজ্য পথের দিকে নজর দিচ্ছে। এই নতুন রুট ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল বদলে দিতে পারে। আসলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে অস্থিরতা দিনদিন বাড়ছে (Energy Security)। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝামেলা এড়াতে ভারত এখন বিকল্প বাণিজ্য পথের খোঁজ করছে। হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনা এবং লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেব করিডোরে হামলার জেরে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই জলপথগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, ভারতের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশের জন্য এগুলি লাইফলাইন।
জ্বালানি সংকট এড়াতে রাশিয়ার নতুন রুটের দিকে ঝুঁকছে ভারত?
বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ হল ভারতের। যেখানে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বিদেশ থেকে আসে। তার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বস্তুত তেলের ক্ষেত্রে ভারতের আমদানি নির্ভরতা প্রায় ৮৫-৯০%। পাশাপাশি দেশে ব্যবহৃত এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG)-র একটা বড় অংশও আমদানি করতে হয়। আর এই বিপুল আমদানির জন্য ভারতকে পুরোপুরি সমুদ্রপথের উপর নির্ভর করতে হয়। সমস্যা আরও বাড়ে কারণ, ভারতের বেশিরভাগ জ্বালানি পরিকাঠামো পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি আমদানি এবং তেল শোধনাগারগুলোর বেশিরভাগই পশ্চিম উপকূলে রয়েছে। তার ফলে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা আরব সাগর এবং হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেবের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল।

বিদেশনীতি এবং কূটনৈতিক পথেও এগিয়ে দেশ
এই নির্ভরতা কৌশলগত দিক থেকেও চিন্তার বিষয়। কারণ, জামনগর এবং ভাদিনারের মতো প্রধান শোধনাগারগুলি দেশের মোট তেল শোধনের একটা বড় অংশ সামলায়। অন্যদিকে, রাশিয়া এখন ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সাল থেকে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩০-৪০ শতাংশই আসছে রাশিয়া থেকে। ২০২৬ সালের কয়েকটি মাসে, রাশিয়া থেকে আমদানি আরও বেড়ে যায়। এর ফলে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে মস্কোর অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি আসার উৎস বাড়লেও, পরিবহনের পথগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। রাশিয়ান তেলের বেশিরভাগটাই এখনও বাল্টিক বন্দর থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভারতের পশ্চিম দিকের বন্দরগুলিতে পৌঁছয়। স্বাভাবিকভাবেই, অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহের মতো এই পথটিতেও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকেই যায়।
কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে ইস্টার্ন মেরিটাইম করিডোর

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, এখন চেন্নাই-ভ্লাদিভস্তক মেরিটাইম করিডোরের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি ইস্টার্ন মেরিটাইম করিডোর (EMC) নামেও পরিচিত। গত ২০১৯ সালে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম এই করিডোরের কথা ঘোষণা করেন। ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এটি। এই রুটটি চেন্নাইয়ের সঙ্গে ভ্লাদিভস্তককে যুক্ত করে। সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপীয় রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের যে পুরনো পথ রয়েছে, তার তুলনায় এই নতুন পথের দূরত্ব অনেকটাই কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই করিডোর ভারতের লজিস্টিক অপশন বাড়াতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে, ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর উপর নির্ভরতাও কমাবে। এই রুটটিকে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য এবং আর্কটিক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাছাড়া ঐ অঞ্চলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ এবং বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে। দুই দেশের নিরাপত্তা আধিকারিকরা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। এই করিডোর সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যাতায়াতের দূরত্ব কমার পাশাপাশি খালের ট্রানজিট চার্জ এড়ানো গেলে পরিবহনের খরচও অনেকটাই কমে যাবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
