বিজেপি নেতারা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না ফেসবুক।  জাতীয় কংগ্রেসের থেকে শুরু করে একে একে সব বিরোধী দলই এই অভিযোগ আনছিল। গত কয়েক দিন ধরেই এই নিয়ে সরগরম রয়েছে দেশে রাজনীতি। ফেসবুক কর্তা মার্ক জুকারবার্গের কাথে এনিয়ে একের পর এক চিঠিও পাঠিয়েছে  বিরোধিরা।  ফেসবুকের উদ্দেশে প্রবল তোপ দেগেছে বিরোধীরা। এই চাপের মধ্যেই অবশেষে পদক্ষেপ করতে দেখা গেল ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে। পোস্ট করা কনটেন্টের মাধ্যমে হিংসা ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিং-কে।

 

 

ফেসবুকের মুখপাত্র তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘ঘৃণা এবং হিংসায় উস্কানিমূলক পোস্ট আমাদের নীতির পরিপন্থী। আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পোস্টগুলি মূল্যায়ন করে দেখেছি, সেগুলি আমাদের নীতি লঙ্ঘন করছে। তাই আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে তাঁর অ্যাকাউন্ট সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ নীতি লঙ্ঘনকারীদের পর্যালোচনা করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে, তারই ফলস্বরূপ রাজা সিং-এর অ্যাকাউন্ট ফেসবুক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

আরও পড়ুন: বিশ্বরেকর্ড গড়ে ভারতে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৮৩ হাজারের উপরে, ২৪ ঘণ্টায় ১১ লক্ষের উপর নমুনা পরীক্ষা

বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ভিডিও পোস্ট করার কারণে তেলঙ্গানার বিতর্কিত বিজেপি নেতা টি রাজা সিংহের অ্যাকাউন্ট  ফেসবুকের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।  কিছু দিন আগেই অবশ্য রাজা সিংহের একাধিক পোস্ট মুছে দিয়েছিল ফেসবুক। এ বার তাঁর পুরো প্রোফাইলটাই বাতিল করা হয়েছে।

 সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয় যে ভারতের শাসক দল বিজেপিকে চটাতে ভয় পায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। কারণ, তাতে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। তাই বিজেপি নেতাদের হিংসায় উস্কানি বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করে না ফেসবুক। এমনকি, এ বিষয়ে ঘোষিত নীতি ভাঙতেও পিছপা হয় না জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া সাইটটি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসায় প্ররোচনা দিতে ফেসবুকে একাধিকবার বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন তেলঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিংহ। এ ছাড়া, বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল কপিল মিশ্র, অনন্ত হেগড়ে-সহ একাধিক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও। কিন্তু তার পরেও এই নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ফেসবুক।

আরও পড়ুন: লাদাখে উত্তেজনা বাড়তেই ফের ভারতের পাশে আমেরিকা, চিনকে 'যুদ্ধবাজ প্রতিবেশী' বলে কটাক্ষ পম্পেওর

এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করে বিরোধীরা। সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয় বুধবার৷  তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হন বিরোধী সাংসদরা৷ ফেসবুক ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজিত মোহনকে সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন শাসক ও বিরোধী দু'পক্ষের সাংসদরাই। যদিও ফেসবুকের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয় যে বিদ্বেষের সঙ্গে কোনো রকম আপস তারা করে না।

এই পরিস্থিতিতে হায়দরাবাদের ঘোসামহলের প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ফেসবুকের পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই। যদিও জুলাই  মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেই বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিংহ দাবি করেছিলেন, তাঁর কোনও অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই।