দেশের অর্থনীতির যে বেহাল দশা, তা প্রত্যেক মুহূর্তে প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু তার ভয়াবহ দশার থেকেও ভয় জাগানো হল দেশের অর্থনীতি যে ঠিক পথেই রয়েছে তা প্রমাণ করতে তৎপর হওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের একের পর এক মন্তব্য। যেমন শনিবারই বলিউডের বক্সঅফিস কালেকশন দিয়ে ভারতীয় অর্থনীতি টিক পতে প্রমাণ করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তাঁর সেই মন্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হোয়ার পর রবিবার একরকম বাধ্য হয়েই তিনি সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন।   

শনিবার রবিশঙ্কর প্রসাদ এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, গত ২ অক্টোবর ভারতে তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। বানিজ্য বিশ্লেষক কোমল নাথ জানিয়েছেন, প্রথম দিনই তিনটি ছবি সম্মিলিতভাবে ১২০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। বলিউড একদিনেই এত টাকার বানিজ্য করতে পারা থেকেই ভারতীয় অর্থনীতি যে দারুণ অবস্থায় াছে তা প্রমাণিত হয় - এই ছিল তাঁর যুক্তি।

এরপরই সোশ্য়াল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনটি ফিল্মের বক্স্ফিস কালেকশন দিয়ে তাঁর মতো একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কীভাবে একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করছেন, তাই নিয়ে হাসাহাসি-কটাক্ষও হয়।

রবিবার একরকম বাধ্য হয়েই একপা পিছিয়ে এক বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ওই মন্তব্য করার জন্য তাঁর আক্ষেপ রয়েছে। কারণ তা বিষয়েরর সঙ্গে সাজুয্যপূর্ণ নয়, এবং এর ফলে বহু মানুষের মনে াগাত লেগেছে।

তবে বলিউড নিয়ে তাঁরা গর্বিত, এবং তিনি যে তথ্য দিয়েছিলেন তাতে কোনও ভু নেই বলেও একিসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন। জানান, ভারতের ফিল্ম-রাজধানী মুম্বই-এ ছিলেন বলেই তিনি বলিউডের প্রসঙ্গে এনেছিলেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছিলেন 'মিলেনিয়াল'-রা 'ওলা-উবার' বেশি চড়তে চান বলেই নাকি গাড়ি শিল্প মুখ থুবরে পড়ছে। আবার তারপরে রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল অর্থনীতির অঙ্ক মানতে চাননি। বদলে অঙ্ক কোনও কাজে লাগে না এরকম মন্তব্যও করেন। আবার আইনস্টাইন মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করেছিলেন মার্কা ভুল মন্তব্য করে হাসির পাত্রও হয়েছিলেন। সেই তালিকাতেই নতুন সংযোদজন রবিশঙ্কর প্রসাদ।