ওসামা বিন লাদেন। এখনও সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সনত্রাসবাদী। তারই কন্যা জোয়া নাকি ভোজপুরি সংগীতশিল্পী প্রদীপ মৌর্যকে গোপনে বিবাহ করেছেন। এই দাবি করে একটি হিন্দি সংবাদ নিবন্ধের কাটিং-এর ছবি গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। নিউজ পেপার কাটিং-টিতে প্রদীপ মৌর্যের সঙ্গে জোয়ার একটি ছবিও রয়েছে।

শুধু তাই নয়, নিউজ পেপার কাটিং-এর সংবাদে দাবি করা হয়েছে, জোয়া লাদেনের প্রথম স্ত্রীর কন্যা। ফেসবুকে জোয়া এবং প্রদীপ মৌর্যের আলাপ হয়। সেই থেকে প্রেমে এবং তারপরই তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। দিন কয়েক আগেই মুম্বইয়ের আর্য সমাজ মন্দিরে তারা বিবাহ করেছেন। জোয়া তার আগে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে। সে বলেছে, ইসলাম বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় এবং নোংরা ধর্ম। আরও বলা হয়েছে অক্টোবর মাসে হিন্দু রীতিনীতি মেনেই গায়ক প্রদীপ মৌর্যের সঙ্গে বিয়ে করবে ওসামা বিন লাদেনের কন্যা জোয়া খান।

ফেসবুক, টুইটার সহ বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই খবরের কাগজের কাটিংটি শেয়ার করা হয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি লাদেনের মতো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসবাদীর মেয়ে, এক ভোজপুরি গায়কের প্রেমে পড়ল? তাঁকে বিবাহ করার জন্য ইসলাম সম্পর্কে কুকথা বলে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করল?

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে এই ভাইরাল খবরটি সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। বহু চেষ্টা করেও হিন্দি ভাষার এই প্রতিবেদনটি কোন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বা আদৌ এটি কোনও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা যায়নি। তবে খোঁজ খবর করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে ভোজপুরি গায়ক প্রদীপ মৌর্য স্বয়ং এই দাবিটি নস্যাত করে দিয়েছেন। তবে কি তিনি সত্য গোপন করছেন?

আরও বিশদ অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে জোয়া নামে ওয়ামা বিন লাদেনের কোনও মেয়েই নেই। তাহলে প্রশ্ন হল ছবিতে মৌর্যের সহ্গে যে মহিলাকে দেখা যাচ্ছে তিনি কে? ছবিটি ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গিয়েছে ওই মহিলা হলেন একজন পাকিস্তানি মডেল তথা অভিনেত্রী। নাম, সায়রা ইউসুফ। তবে কি এই সায়রার সঙ্গে প্রদীপের কোনও সম্পর্ক গড়ে উঠেছে?

না, ঘটনা তাও নয়। ৭ বছর আগে সায়রা ইউসুফের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানি অভিনেতা শেহরোজ সবজওয়ারির সঙ্গে। তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই সায়রা ও সবজওয়ারির বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে।

কাজেই ওসামা বিন লাদানের মেয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে ভোজপুরি গায়ক প্রদীপ মৌর্ষকে বিয়ে করছেন বলে দাবি করে যে সংবাদপত্র প্রতিবেদনের কাটিং পোস্ট করা হচ্ছে, সেই দাবি এবং প্রতিবেদন - দুটিই ভুয়ো। দূর-দূরান্ত পর্যন্ত সত্যের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।