WhatsApp আর Telegram-এ হু হু করে ছড়াচ্ছে 'ওয়ার লকডাউন'-এর খবর। ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে নাকি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করতে চলেছে সরকার। এর পেছনের আসল সত্যিটা জেনে নিন।

পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর তার মধ্যেই ভারতে ১ এপ্রিল, অর্থাৎ April Fools' Day-তে একটা মেসেজ ভাইরাল হয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। WhatsApp আর Telegram গ্রুপগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, ইরান সম্পর্কিত উত্তেজনার জেরে সরকার নাকি দেশজুড়ে 'ওয়ার লকডাউন' জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

April Fools' Day-তে 'ওয়ার লকডাউন' PDF পেয়ে আপনিও কি বোকা বনেছেন?

২০২৬ সালের ১ এপ্রিল এই ভাইরাল পোস্টটিতে বলা হয়, ২০২০ সালের কোভিড লকডাউনের মতোই ভারত সম্পূর্ণ শাটডাউনের দিকে এগোচ্ছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

কিন্তু এই দাবির মধ্যে কোনও সত্যতা নেই।

ভারত সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা কোনও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের 'ওয়ার লকডাউন' নিয়ে কোনও ঘোষণাই করা হয়নি।

কীভাবে এই গুজব ছড়াল?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে ভাষণ দেওয়ার পরেই গুগলে 'Lockdown in India 2026' কথাটা ট্রেন্ড করতে শুরু করে। ভাষণে তিনি বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার সংকটকে কোভিড-১৯ মহামারীর চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

মোদী 'টিম ইন্ডিয়া'র মনোভাব নিয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু অনেকেই তাঁর এই বার্তাটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বা বিকৃত করে আসন্ন লকডাউনের ইঙ্গিত বলে ধরে নেয়।

এই ভুল বোঝাবুঝি থেকেই গুজব ছড়ায় এবং April Fools' Day-র দিন একটি ভাইরাল 'ওয়ার লকডাউন PDF' মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে।

সরকার আসলে কী করছে?

'ওয়ার লকডাউন'-এর দাবিটা ভুয়ো হলেও, সরকার কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য ভারতের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা নয়।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নরদের সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যে সম্ভাব্য বাধা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়েই এই বৈঠক হয়েছে।

ভুয়ো খবর কীভাবে চিনবেন?

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) বারবার সতর্ক করেছে যে, হঠাৎ লকডাউন বা জরুরি অবস্থার দাবি করে ফরোয়ার্ড করা অডিও ক্লিপ, PDF বা স্ক্রিনশট প্রায় সবসময়ই ভুয়ো হয়। সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি প্ল্যাটফর্ম, মন্ত্রকের ভেরিফায়েড X হ্যান্ডেল এবং বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের ওপর ভরসা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।