দিল্লির উপকণ্ঠে চলা কৃষক আন্দোলন ২৯ দিনে পড়ল। এখনও তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে সরব রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন বা বিকেইউ তিনটি আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি নতুন তিনটি কৃষি আইন পুঁজিপতিদের স্বার্থ সুরক্ষিত করবে। নতুন আইনগুলি কৃষকদের স্বার্থে লাগু করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে আবেদনপত্রে।  

আবেদনে বিকেইউ দাবি করেছে নতুন কৃষি আইন কর্পোরেট স্বাস্থ্যকে উৎসাহিত করবে। এই আইনগুলিতে মোটেও নজর দেওয়া হয়নি কৃষকদের স্বার্থ। অ্যাডভোকেট এপি সিংয়ের মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে এই আইনগুলি একাধারে সংবিধান বিরোধী ও কৃষক বিরোধী। কারণ এটি কৃষি উৎপাদনেরর বাজার কমিটি বা  এপিএমসি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে দেবে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষিজাত পণ্যের ন্যায্য দাম। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি সমান্তরাল বাজার খোলার মাধ্যমে আগামী দিনে কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে । কোনও নিময় নীতি না থাকায় দেশের কৃষকদের শোষণ করতে পারবে পুঁজিপতিরা। কারণ আগামী দিনে পুঁজিপতিদের ধার্য করা দামেই ফসল বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে কৃষকদের। 

জম্মু ও কাশ্মীর কার, ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাকযুদ্ধে গুফকার বনাম বিজেপি ...

নতুন কৃষি আইনের প্রতিবাদে ভাই রাষ্ট্রপতির দরবারে, বোনকে আটক করল দিল্লি পুলিশ ...

সুপ্রিম কোর্টেই কৃষক বিক্ষোভ সম্পর্কিত একটি মামলার শুনানি চলছে। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রধানবিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছিল কোনও রকম বাধা ছাড়াই কৃষক বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিৎ। সুপ্রিম কোর্টে চলা সেই মামলায় বিকেইউসহ বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠনকে উত্তরদাতা হিসেবে কার্যকর করা হয়েছিল। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমকর স্পষ্ট করে দিয়েছে কৃষি আইন প্রত্যাহারের কোনও চিন্তাভাবনা কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। তাঁরা বর্তমানে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের পাঠানো চিঠি নিয়েও গতকাল আলোচনা করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। সেখানে আরও একবার তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনটি আইন প্রত্যাহার না হওযায় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন তাঁরা।