- Home
- India News
- Fastest Trains In India: ঘণ্টায় ১৬০ কিমি! ভারতের সবচেয়ে দ্রুতগামী ৫টি ট্রেন কোনগুলো জানেন?
Fastest Trains In India: ঘণ্টায় ১৬০ কিমি! ভারতের সবচেয়ে দ্রুতগামী ৫টি ট্রেন কোনগুলো জানেন?
Fastest Trains In India ভারতীয় রেলওয়েতে এখন অনেক বদল এসেছে। আগের চেয়ে ট্রেনের গতি বেড়েছে অনেকটাই। ভবিষ্যতে বুলেট ট্রেনও আসতে চলেছে। তবে বর্তমানে ভারতের বুকে সবচেয়ে জোরে ছোটে কোন ৫টি ট্রেন? চলুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

বন্দে ভারত এক্সপ্রেস – ঘণ্টায় ১৬০ কিমি
Fastest Trains In India: দ্রুতগামী ট্রেনের তালিকায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের নাম সবার আগে আসে। কিছু রুটে এই ট্রেন ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে ছোটে। বিশেষ করে দিল্লি-আগ্রা রুটের তুঘলকাবাদ-আগ্রা সেকশনে এই গতি তোলে বন্দে ভারত। ট্রায়ালের সময় এটি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতি ছুঁয়েছিল। প্রযুক্তিগতভাবে ট্রেনটি ঘণ্টায় ১৮৩ কিলোমিটার বেগে চলার জন্য তৈরি। তবে ট্র্যাক এবং সিগন্যালিংয়ের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে এর গতি কিছুটা বেঁধে রাখা হয়েছে।
বন্দে ভারতে আলাদা কোনও ইঞ্জিন থাকে না। এটি সেলফ-প্রপেলড ট্রেন, অর্থাৎ ট্রেনের কোচগুলোই ট্র্যাকশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে কাজ করে। এর ফলে স্টেশনে থামার পর ট্রেনটি খুব দ্রুত গতি বাড়াতে পারে। পুরনো ট্রেনের তুলনায় কম স্টপেজ এবং দ্রুত অ্যাকসিলারেশন যাত্রার সময় অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তাই শুধু সর্বোচ্চ গতি নয়, সেই গতিকে কতটা ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে, সেটাই বন্দে ভারতের আসল চমক।

নমো ভারত – ঘণ্টায় ১৬০ কিমি
নমো ভারত ট্রেনটিও ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। এটি ভারতীয় রেলের সাধারণ কোনও এক্সপ্রেস ট্রেন নয়। এটি রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS)-এর একটি অংশ। দিল্লি-মিরাট করিডরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই সিস্টেমের লক্ষ্য হলো দ্রুত আঞ্চলিক যাতায়াত নিশ্চিত করা। এই করিডরটি প্রায় ৮২ কিলোমিটার লম্বা। সাধারণ রেললাইনের বদলে সম্পূর্ণ আলাদা ট্র্যাকে চলায় এই ট্রেন অনায়াসে নিজের গতি ধরে রাখতে পারে। রাস্তায় কোনও লেভেল ক্রসিং না থাকা এবং অন্য কোনও ধীর গতির ট্রেনের সঙ্গে লাইন শেয়ার না করার ফলে এর গতি ব্যাহত হয় না। নমো ভারতের গড় গতি থাকে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। দিল্লি থেকে মিরাটের যাত্রাপথ দ্রুত শেষ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাস্তায় যানজটে আটকে থাকার বদলে এই ট্রেনে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যায়। দিল্লি-মিরাট যাত্রা মাত্র ৫৫ মিনিটে শেষ করার লক্ষ্যেই এই সিস্টেম তৈরি হয়েছে।
গতিমান এক্সপ্রেস – ঘণ্টায় ১৬০ কিমি
ভারতে বাণিজ্যিকভাবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে চলা প্রথম ট্রেনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গতিমান এক্সপ্রেস। ২০১৬ সালের এপ্রিলে এই ট্রেন চালু হয়। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এটি ছিল একটি বড় পদক্ষেপ। দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন থেকে আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার দূরত্ব খুব দ্রুত পার করে এই ট্রেন। বন্দে ভারত আসার পর গতিমানের জৌলুস কিছুটা কমলেও, এটি এখনও দেশের অন্যতম দ্রুতগামী ট্রেন। দারুণ টাইমটেবিল এবং অনবোর্ড ক্যাটারিংয়ের মতো সুবিধা রয়েছে এতে। আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। ভারতীয় রেলে হাই-স্পিড ট্রেনের নতুন পথ দেখিয়েছিল এই গতিমান এক্সপ্রেসই। এরপর আসা আধুনিক ট্রেনগুলো আরও বেশি গতি এবং সুবিধা নিয়ে যাত্রীদের কাছে হাজির হয়েছে।
নয়াদিল্লি-ভোপাল শতাব্দী এক্সপ্রেস – ঘণ্টায় ১৫০ কিমি
গতিমান এক্সপ্রেস আসার আগে দ্রুতগামী ট্রেনের তালিকায় শতাব্দী এক্সপ্রেসের আলাদা একটা পরিচিতি ছিল। নয়াদিল্লি-ভোপাল শতাব্দী এক্সপ্রেস কিছু রুটে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ছোটে। বিশেষ করে তুঘলকাবাদ-আগ্রা সেকশনে এই গতি তোলার সুযোগ পায় ট্রেনটি। দিল্লি থেকে মধ্যপ্রদেশের দিকে দিনের বেলায় যারা যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে দারুণ কাজে আসছে। যাত্রীদের জন্য এসি চেয়ার কার এবং খাবারের সুবিধা রয়েছে। বন্দে ভারত বা গতিমানের মতো ট্রেনগুলো এখন বেশি গতিতে ছুটলেও, শতাব্দী এক্সপ্রেসের গুরুত্ব কিন্তু একটুও কমেনি। দেশের রাজধানী দিল্লির সঙ্গে মধ্য ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে জুড়ে রাখার ক্ষেত্রে এই ট্রেন বড় ভূমিকা পালন করে। চাকরি, পড়াশোনা বা ব্যবসার কাজে দিল্লি যাতায়াত করা যাত্রীদের কাছে এটি আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস – ঘণ্টায় ১৪০ কিমি
মুম্বই-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ট্রেন। ১৯৭২ সাল থেকে মুম্বই ও দিল্লির মধ্যে রাজধানী এক্সপ্রেসের পরিষেবা চলছে। আধুনিক এলএইচবি (LHB) কোচ এবং উন্নত ট্র্যাকের দৌলতে বর্তমানে এই ট্রেন কিছু রুটে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। মুম্বই থেকে দিল্লি পর্যন্ত প্রায় ১,৩৮৪ কিলোমিটার দূরত্ব পার করে এই ট্রেন। পুরো যাত্রাপথে এর গড় গতি থাকে ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার। প্রিমিয়াম সুবিধা, দারুণ খাবার এবং আরামদায়ক কোচ হলো এর প্রধান আকর্ষণ। তাই দূরপাল্লার যাত্রায় গতির পাশাপাশি যারা আরামও খোঁজেন, সেই যাত্রীদের প্রথম পছন্দ এই তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস।

