পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনা পরিস্থিতির মতো 'টিম ইন্ডিয়া' হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই শুক্রবার রাতে দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে 'টিম ইন্ডিয়া' হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে।
এদিনের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও উপস্থিত ছিলেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরির মতো ভোটমুখী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি চালু থাকার কারণে এই রাজ্যগুলির পরিবর্তে মুখ্যসচিবদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, করোনা অতিমারির সময় যেভাবে দেশ একজোট হয়ে লড়াই করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলাতেও সেই একই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, দেশে করোনা পরিস্থিতির মতো 'লকডাউন' হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে মজুতদারি ও মুনাফাখোরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে খারিফ মরসুমের আগে সার ও বীজের সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। সীমান্ত ও উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিকে জাহাজ চলাচল এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পেট্রল ও ডিজেলের ওপর লিটারপিছু ১০ টাকা অন্তঃশুল্ক কমিয়ে দিয়েছে। এদিনের বৈঠকে মোদী রাজ্যগুলিকে বিকল্প শক্তির উৎস যেমন— বায়োফুয়েল ও সৌরশক্তির ব্যবহারের ওপর আরও জোর দিতে উৎসাহিত করেন। এছাড়া, বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যগুলিকে হেল্পলাইন নম্বর এবং নোডাল অফিসার নিয়োগের প্রস্তাবও দেন তিনি। সব মিলিয়ে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই বিশ্বজনীন সংকট কাটিয়ে উঠতে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী মোদী।


