PM Modi on West Asia Conflict:পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, এই সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তাই ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর মতে, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই একমাত্র সমাধান সম্ভব। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক স্তরে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হল আলোচনা ও কূটনীতি।

ইরানের যুদ্ধ নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য মোদীর

লোকসভায় এই বিষয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের জন্য দেশকে তৈরি থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে কঠিন পরিস্থিতি আরও বেশ কিছুদিন চলতে পারে। তাই আমাদের একজোট হয়ে তৈরি থাকতে হবে। করোনা মহামারীর সময় আমরা একজোট হয়েই এমন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছিলাম। আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। কিছু লোক এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারা সফল না হয়।"

ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা

মোদী জানান, উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত শেষ করার জন্য ভারত শুরু থেকেই কূটনৈতিক স্তরে চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথ আটকে দেওয়া "একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না"।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা স্পষ্ট। শুরু থেকেই আমরা এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি সবাইকে উত্তেজনা কমাতে এবং এই সংঘাত শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি। ভারত সাধারণ মানুষ, শক্তি এবং পরিবহণ পরিকাঠামোর উপর হামলার নিন্দা করেছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভারত কূটনৈতিক স্তরে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত বরাবরই মানবতার কল্যাণ ও শান্তির পক্ষে।"

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের একমাত্র সমাধান হল আলোচনা এবং কূটনীতি।

ভারতের লক্ষ্য

মোদী বলেন, "আমি আবারও বলছি, এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হল আলোচনা ও কূটনীতি। আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা উত্তেজনা কমানো এবং এই সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে। এই যুদ্ধে কারও জীবন বিপন্ন হওয়া মানবতার স্বার্থে নয়। তাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব পক্ষকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছতে উৎসাহিত করাই ভারতের লক্ষ্য।"

তিনি আরও জানান, "যখনই এমন সংকট তৈরি হয়, কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই সমস্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে। উপকূলীয় সুরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা, সাইবার সুরক্ষা বা কৌশলগত পরিকাঠামোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধৈর্য, সংযম এবং শান্ত মাথায় প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই ভারতের পরিচয়। তিনি পরিস্থিতির সুযোগসন্ধানীদের সম্পর্কেও সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, "আমাদের ধৈর্য, সংযম এবং শান্ত মাথায় প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। এটাই আমাদের পরিচয়, এটাই আমাদের শক্তি। যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায়, তারা মিথ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করবে। তাদের সেই চেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না। আমি এই সভার মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য সরকারের কাছেও আবেদন করব, এই ধরনের সময়ে কালোবাজারি এবং মজুতদাররা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর জন্য কড়া নজরদারি জরুরি। যেখানেই এমন অভিযোগ আসবে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের প্রতিটি সরকার এবং প্রত্যেক নাগরিক একসঙ্গে কাজ করলে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব।"