হায়দরাবাদ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ের পর এবার পুরী। দেশজুড়ে যতই বিক্ষোভ, জনরোষ গড়ে উঠুক না কেন, ধর্ষকদের তাতে কিছুই যায় আসে না। এবার পুরীতে পুলিশ আবাসনের মধ্যেই এক যুবতীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হল। মূল অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আবার ওড়িশা পুলিশের  প্রাক্তন কনস্টেবল। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত জিনতেন্দ্র শেঠি নামে ওই প্রাক্তন পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কুম্ভরাপাড়া থানার পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। 

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নির্যাতিতা একজন নাবালিকা। সোমবার ভুবনেশ্বর থেকে ককটপুরে নিজের গ্রামে ফিরছল সে। মাঝে নিমাপাড়াতে বাস বদল করার জন্য সে অপেক্ষা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছয় জিনতেন্দ্র। ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওযার প্রস্তাব দেয় সে। 

কিশোরীর অভিযোগ, আপত্তি করা সত্ত্বেও জোর করে তাকে গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে অভিযুক্তের আরও তিন সঙ্গী ছিল বলে অভিযোগ কিশোরীর। এর পর গাড়িটি নিয়ে পুরীর দিকে চলে আসে অভিযুক্তরা। 

আরও পড়ুন- যৌনাঙ্গছেদ করা হোক ধর্ষকদের, দাবি উঠল সংসদে

আরও পড়ুন- পুরুষের চোখে নারী কেমন, জেলে ঢুকে ১২২ জন ধর্ষককে প্রশ্ন করেছিলেন এই ছাত্রী

নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, তাকে একটি পুলিশ কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই প্রাক্তন পুলিশকর্মী এবং তার এক সঙ্গী মিলে ওই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে। বাকি দু' জন বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। 

ওই নাবালিকা জানায়, তার উপর নির্যাতন চালানোর পরে মদ্যপান করে দুই অভিযুক্ত ঘুমিয়ে পড়ে। তখনই জানলা দিয়ে বাইরে থেকে একজন ডেকে দরজা খুলে পালায় সে। পালানোর আগে বুদ্ধি করে এক অভিযুক্তের মানিব্যাগ সঙ্গে করে নিয়ে যায় নির্যাতিতা। সে সোজা চলে যায় কুম্ভরপাড়া থানায়। 

নির্যাতিতার থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেই তৎপর হয় পুলিশ। আধার কার্ডের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই প্রাক্তন পুলিশ কনস্টেবলকে ধরে ফেলে পুলিশ। বাকি তিন অভিযুক্তেকেও পরে গ্রেফতার করা হয়। প্রত্যেককেই জেরা করছে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্ক, বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় বছর তিনেক আগে ওই পুলিশ কনস্টেবলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার স্ত্রীও ওড়িশা পুলিশে চাকরি করেন। ওই কোয়ার্টারটি তাঁর নামেই বরাদ্দ করা ছিল। সেখানেই ওই নাবালিকার উপরে অত্যাচার চালায় ওই প্রাক্তন পুলিশকর্মী। ঘটনার সময় অভিযুক্তের স্ত্রী কোয়ার্টারে ছিলেন না বলেই জানা গিয়েছে।