সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম বা SCSS-এ এককালীন সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে প্রতি মাসে ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত আয় সম্ভব। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ৫ বছরের জন্য এই স্কিমে টাকা রাখতে পারেন। 

অবসরের পর প্রতি মাসে নিশ্চিত টাকা হাতে পেতে চান? বাজার ঝুঁকি ছাড়া নিরাপদ আয়ের খোঁজ করছেন? তাহলে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সেরা অপশন হলো সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম, সংক্ষেপে SCSS। এই স্কিমে একবার বিনিয়োগ করলেই প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত। সম্পূর্ণ সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত হওয়ায় টাকা মার যাওয়ার কোনো ভয় নেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

SCSS কেন সেরা? প্রথমত, সুদের হার। ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে এই স্কিমে বার্ষিক সুদ দেওয়া হচ্ছে ৮.২%। এই হার অন্যান্য ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় অনেকটাই বেশি। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত আয়। সুদের টাকা প্রতি তিন মাস অন্তর, অর্থাৎ ৩১ মার্চ, ৩০ জুন, ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর সরাসরি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

হিসাবটা সহজ। SCSS-এ একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। ৩০ লক্ষ টাকার উপর ৮.২% হারে এক বছরে সুদ হয় ২,৪৬,০০০ টাকা। তিন মাসে ভাগ করলে দাঁড়ায় ৬১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে আপনি পাচ্ছেন ২০,৫০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে অবসর জীবনের ওষুধের খরচ, বাজার, ইলেকট্রিক বিল, এমনকি ছোটখাটো শখও মেটানো যায়।

কারা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন? ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী যে কোনো ভারতীয় নাগরিক। প্রতিরক্ষা কর্মী হলে ৫০ বছর বয়স থেকেই সুযোগ পাবেন। যারা VRS বা স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন, তাঁরা ৫৫ বছর বয়সের পর অবসরের ১ মাসের মধ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট খোলা যায় যে কোনো পোস্ট অফিস বা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে।

কী কী লাগবে? আধার কার্ড, প্যান কার্ড, বয়সের প্রমাণপত্র, ঠিকানার প্রমাণ ও দুটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। নগদে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়। তার বেশি হলে চেক বা ডিমান্ড ড্রাফট লাগবে। স্বামী-স্ত্রী চাইলে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন, তবে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৩০ লক্ষই থাকবে।

ট্যাক্সের সুবিধাও আছে। আয়কর আইনের 80C ধারায় বিনিয়োগের উপর দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় মেলে। তবে মনে রাখবেন, সুদের টাকার উপর কর দিতে হয়। যদি এক অর্থবর্ষে সুদ ৫০ হাজারের বেশি হয়, তাহলে TDS কাটা হবে। সিনিয়র সিটিজেনরা ফর্ম 15H জমা দিয়ে TDS এড়াতে পারেন।

মেয়াদ ৫ বছর। তবে চাইলে ম্যাচিউরিটির পর আরও ৩ বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া যায়। জরুরি প্রয়োজনে ১ বছর পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে বন্ধ করলে জমার উপর ১.৫% এবং ২ বছর পর বন্ধ করলে ১% হারে পেনাল্টি কাটা হয়।

অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের মৃত্যু হলে নমিনি পুরো টাকা পেয়ে যান। কোনো পেনাল্টি কাটা হয় না। তাই পরিবারের আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত থাকে।

সব মিলিয়ে, অবসর জীবনে প্রতি মাসে নিশ্চিত ও নিরাপদ আয়ের জন্য SCSS-এর কোনো বিকল্প নেই। বাজারের ওঠানামা, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ঝুঁকি এখানে নেই। একবার বিনিয়োগ করুন, আর ৫ বছর ধরে প্রতি ত্রৈমাসিকে নিশ্চিন্তে টাকা তুলুন।

দেরি না করে আজই নিকটবর্তী পোস্ট অফিস বা ব্যাংকে যোগাযোগ করুন। অবসরের দিনগুলো হোক দুশ্চিন্তামুক্ত।