করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় দু-দফায় টানা ৪০ দিনের লকডাউনের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করায় দেশের অধিকাংশ শ্রমিকই তাঁর বাড়ি ফিরতে পারেননি। আটকে পড়েছিলেন ভিন রাজ্যে। চরম দুর্দশায় কাটছিল তাঁদের দিন। দিন যত যাচ্ছে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার দাবি ততই জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গত বুধবারই কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরেয়ে নিয়ে যেতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল। স্বারাষ্ট্র মন্ত্রকের সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই শ্রমিকদের বাড়ি ফিরেয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ রাজ্যই তাতে রাজি হয়নি। রাজস্থানসহ একাধিক রাজ্যই শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ ট্রেনের দাবি জানিয়েছিল। 

বৃহস্পতিবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল রাজ্যের দাবি বিবেচনা করা হবে। শুক্রবার সেই দিয়েই এগোল কেন্দ্র। তেলাঙ্গনা থেকে ঝাড়খণ্ডের আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরাতে প্রথম বিশেষ ট্রেন ছাড়াল রেল মন্ত্রকের নির্দেশে। শুক্রবার সকালে  রেল মন্ত্রকের নির্দেশে বিশেষ ট্রেনটি তেলাঙ্গনার লিঙ্গাপালি থেকে ঝাড়খণ্ডের হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। 

২৪ কোচের এই বিশেষ ট্রেন ১২০০ অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। রেল  মন্ত্রক সূত্রের খবর নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনেই সকল ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একটি কামরায় ৭২ জন যাত্রীর বেশি যাত্রীকে সফরের অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

আরও পড়ুনঃ ছাড়পত্র পেলেও এখনও অনিশ্চিত বাড়ি ফেরা, অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ট্রেনের দাবি রাজ্যের...

আরও পড়ুনঃ লকডাউনে দরিদ্রদের সাহায্য করতে ৬৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন, যা খুব বেশি নয় , রাহুলকে বললেন রাজন ...

আরও পড়ুনঃ করোনা মোকাবিলার পর এবার নতুন রেকর্ড কেরলের, পাশে রয়েছে গুরুগ্রামও ...

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানান হয়েছে তেলাঙ্গনা সরকারের আবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেলাঙ্গনায় প্রায় আটকে পড়া অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ। যার অধিকাংশ বিহার, বাংলা আর ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। ঝাড়খণ্ড সরকার একসঙ্গে এতো শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে পারবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। তাই এই বিশেষ ব্যবস্থা। অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ট্রেনের ব্যবস্থা করায় কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।