এক মহিলার নিখোঁজের ঘটনার পর উঠে এল মারাত্মক অভিযোগ। নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে গ্রেফতার হল বাবা! রাজকোট গ্রামীণের এক থানায় ১৯ বছরের এক তরুণীর' মিসিং ডায়েরি' করে তার বাবা।

Gujarat Shocker: গুজরাটের রাজকোটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক মহিলার নিখোঁজের ঘটনার পর উঠে এল মারাত্মক অভিযোগ। নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে গ্রেফতার হল বাবা! রাজকোট গ্রামীণের এক থানায় ১৯ বছরের এক তরুণীর' মিসিং ডায়েরি' করে তার বাবা। রাজকোট গ্রামীণ অপরাধ শাখার মেয়েটির তল্লাশী শুরু করে। এরপর খুবই দ্রুতই তরুণীর খোঁজ মেলে। তারপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সামনে মেয়েটি জানায়, নাবালিকা অবস্থায় তার বাবা বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ করায় সে মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়েছে। তরুণীর মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে শয্যাশায়ী। ধর্ষক বাবার হাত থেকে মুক্তি পেতেই সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে তরুণী জানায়। সে আরও জানায়, তার বাবা রাতে পর্নগ্রাফি সিনেমা দেখার সময় তাকে ডেকে আপত্তিকর কাজ করতে বাধ্য করত। তার কান্নার আওয়াজ চাপা দিতে, বা যন্ত্রণা ঢাকতে টিভির আওয়াজ বাড়িয়ে দিত। যাতে বাইরের কেউ তার আওয়াজ শুনতে না পায়। ধর্ষণের ব্যাপারে কাউকে কিছু বললে বাবা হুমকি দিত বলে মেয়েটি জানায়। নাবালিকা অবস্থা থেকেই তার বাবা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ করত বলে পুলিশকে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি জানায়।

নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয় তরুণীর বাবা

পুলিশের জেরার পর মেয়েটির বাবা তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়। সবার অজান্তেই সে তার মেয়েকে বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ করেছে বলে জানায় সেই ব্যক্তি। অপরাধীর বিরুদ্ধে উপলেতা পুলিশ স্টেশনে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। নিজের মেয়ের পাশাপাশি সেই ব্যক্তি তার ভাইজির ওপরও বছরের পর বছর ধরে শারীরিক নির্যাতন, অসভ্যতা করত বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া জেল, সেফটি কিট ও বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন পরীক্ষার জন্য পাটানো হয়েছে। পুলিশ জানায় অভিযুক্তর স্ত্রীর ক্যান্সারের চতুর্থ স্টেজে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আরও পড়ুন- মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা দাবি, ধূপগুড়িতে উত্তেজনা

কী বলল পুলিশ

পরিবারের মধ্যেই সংঘটিত এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ বলে জানান পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, "এই ঘটনা প্রমাণ করে যে নাবালিকারা অনেক সময় নিজেদের ঘরের মধ্যেও নিরাপদ থাকে না। আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং নির্যাতিতার পাশে সব রকম সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।"পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও অতিরিক্ত জবানবন্দির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও ধারাও যুক্ত হতে পারে। এদিকে, মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্যাতিতার মানসিক কাউন্সেলিং ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।