Fuel Supply: হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশে LPG, পেট্রোল বা ডিজেলের জোগানে কোনও ঘাটতি হবে না। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুকিং না করার অনুরোধ করেছেন। 

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই দেশবাসীকে আশ্বাস দিল কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, দেশে LPG, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন বা প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগানে কোনও ঘাটতি নেই। তবে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুকিং করতে বারণ করা হয়েছে। আজ নয়াদিল্লিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এই কথা জানিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

LPG নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই: কেন্দ্র সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সুজাতা শর্মা বলেন, "আতঙ্কের কারণে গ্যাস বুকিং বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আমরা নাগরিকদের অনুরোধ করছি, অযথা আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করবেন না। এই বিশ্বজোড়া অনিশ্চয়তার সময়ে যতটা সম্ভব জ্বালানি বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।" তিনি জানান, ভারত তার প্রয়োজনীয় LPG-র প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করে। এর বেশিরভাগটাই আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসত, যা এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বন্ধ। তিনি আরও বলেন, "আজ যুদ্ধের ১৩তম দিন এবং হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বন্ধ। এটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা ওই প্রণালী দিয়ে প্রচুর জিনিস আমদানি করি। তবে সরকারের হস্তক্ষেপের পর, এখন আমাদের আমদানির ৭০ শতাংশেরও বেশি অন্য রুট দিয়ে আসছে।"

ভারত চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধক দেশ

সচিবের কথায়, দেশের অভ্যন্তরীণ শোধন ক্ষমতা একটা বড় ভরসা। ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধক দেশ এবং এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল শোধন করা হয়। তিনি বলেন, "অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশ স্বস্তিদায়ক।" অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের অধীনে ৯ মার্চের এক নির্দেশের পর শোধনাগারগুলি LPG উৎপাদন বাড়িয়েছে। সুজাতা শর্মা বলেন, "গতকাল আমি বলেছিলাম ২৫ শতাংশ। এখন আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২৮ শতাংশ LPG তৈরি হচ্ছে। এই বৃদ্ধিটা হয়েছে।"

শর্মা জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ পেট্রোল পাম্প বা রিটেল আউটলেট রয়েছে এবং কোথাও জ্বালানির জোগান বন্ধ হয়নি। ২৫,০০০ ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে LPG সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার ডেলিভারি করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জোগান নিয়ন্ত্রণের জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টরদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয়েছে, কালোবাজারি এবং মজুতদারি রুখতে সঠিক সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে হবে।

LPG এবং গ্যাসের উপর চাপ কমাতে সরকার বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারেও জোর দিচ্ছে। রাজ্যগুলির জন্য কেরোসিনের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য কয়লার জোগানও বাড়ানো হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক রাজ্য দূষণ বোর্ডগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে, হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পকে এক মাসের জন্য সাময়িকভাবে বায়োমাস, RDF পেলেট, কেরোসিন বা কয়লা ব্যবহারের অনুমতি দিতে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির শীর্ষ আধিকারিকরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। জোগান স্বাভাবিক রাখা, অগ্রাধিকারের তালিকা মেনে চলা এবং নিয়ম কার্যকর করার জন্য জেলা স্তরে কমিটিও তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।