জম্মু কাশ্মীরের স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির রীতিমত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় বিরোধী আওয়াজ তোলার চেষ্টা করছে। শনিবার পিপিলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকার ডিক্লারেশন ঘোষণা করেছে যে জম্মু ও কাশ্মীরে আসন্ন জেলা উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাচনে তাঁরা যৌথভাবে লড়াই করবে। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া ঘটনায় তাঁরা রীতিমত হতাশ হয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা জানিয়েছেন জম্মু কাশ্মীরের বিতাড়িত পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বস্তরের প্রচেষ্টায় তাঁরা সামিল হবেন। শুক্রবারই এই নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৮ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আটটি দফায় হবে ভোট গ্রহণ। 

গুপকার অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র সাজ্জাদ লোন জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সিভিল সোসাইটি, রাজনৈতিক দল ও গুর্জার বাকারওয়ালসসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলছেন। পাশাপাশি তাঁরা আরও জানিয়েছেন তফশিলি জাতি ও উপতাজির সঙ্গেও কথা বলছেন তাঁরা। গত বছর ৫ অগাস্ট কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সম্মান প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এই ঘটনার উপত্যকাবাসী মর্মাহত। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে আনার পক্ষেও তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। 

গুপকার অ্যালায়েন্স বলছে, তাদের সংগঠন কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। আর সেই কারণেই তারা স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংস্থার চেয়ারম্যান সতীশ মহালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একথা নিজেই জানিয়েছেন মাহালদার। পাশাপাশি তিনি অভিবাসীদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সুংরক্ষণের ব্যবস্থা করার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য বাজের বরাদ্দ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। মহালদার কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করেন। 

৩৭০ ধারা বিলুপ্তির প্রতিবাদে জম্মু ও কাশ্মীরের একদা যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমানে হাত মিলিয়েছে। ভূস্বর্গের দুই ক্ষমতাসীন দল পিডিপি ও ন্যাশানাল কনফারেন্স জোফকার জোটের কথা ঘোষণা করেছিল। পরে স্থানীয় ছোট রাজনৈতিক দলগুলিও এই জোটে সামিল হয়। জোটের মূল উদ্দেশ্যই হল ৩৭০ ধারা আবারও ফিরিয়ে আনা। একই কথা জানিছেন দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি।