২০২৬ সালের হজ যাত্রা শুরু হচ্ছে ১৮ এপ্রিল থেকে। এ বছর ভারত থেকে মোট ১,৭৫,০২৫ জন পুণ্যার্থী এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নেবেন। যাত্রীদের সুবিধার জন্য 'হজ সুবিধা অ্যাপ', স্মার্ট রিস্টব্যান্ড, ২০ দিনের সংক্ষিপ্ত হজের সুযোগ এবং উন্নত বিমার মতো একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার।
ভারত থেকে ২০২৬ সালের হজ যাত্রা শুরু হতে চলেছে আগামী ১৮ এপ্রিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীদের প্রথম দলটি ওই দিন সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেবে। এই বছর মোট ১,৭৫,০২৫ জন ভারতীয় এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সমস্ত হজযাত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার পুণ্যার্থীদের জন্য একটি মসৃণ, নিরাপদ এবং আরামদায়ক হজ যাত্রার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক, যা হজ পরিচালনার মূল দায়িত্বে রয়েছে, জানিয়েছে যে পুণ্যার্থীদের পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য এই বছর বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভারত সরকার সব রকম ব্যবস্থা পাকা করেছে। এর লক্ষ্য হল যাতায়াতের সুবিধা, উন্নত ভ্রমণ সহায়তা এবং যাত্রার সময় পুণ্যার্থীদের সব রকম সাহায্য করা। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই বছর পুণ্যার্থীদের জন্য সুরক্ষা এবং রিয়েল-টাইম সাপোর্টের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ
হজ ২০২৬-এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল 'হজ সুবিধা অ্যাপ'-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তার। এর ফলে পুণ্যার্থীরা সহজেই জরুরি পরিষেবা এবং তথ্য পাবেন। এছাড়া, 'হজ সুবিধা স্মার্ট রিস্টব্যান্ড' চালু করা হয়েছে, যা কোনও পুণ্যার্থী হারিয়ে গেলে বা জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁর অবস্থান জানতে সাহায্য করবে। এই প্রথমবার, নির্বাচিত পুণ্যার্থীদের জন্য প্রায় ২০ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত হজ যাত্রার বিকল্পও রাখা হয়েছে। সরকার পুণ্যার্থীদের জন্য বিমার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা করেছে, যা যাত্রা চলাকালীন আর্থিক এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সুরক্ষা দেবে। প্রায় ৬০,০০০ পুণ্যার্থী মক্কা ও মদিনার মধ্যে হাই-স্পিড ট্রেনের সুবিধা পাবেন, যা দুই শহরের মধ্যে যাতায়াতকে আরও আরামদায়ক করবে। এছাড়াও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম, অভিযোগ জানানোর উন্নত ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও জোরদার করা হয়েছে। মক্কায় হোটেল-স্টাইলের বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া এবং পুণ্যার্থীদের কল্যাণ
পুণ্যার্থীদের যাত্রা যাতে মসৃণ হয়, তার জন্য দিল্লি, মুম্বাই, লখনউ, হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং শ্রীনগর-সহ দেশের ১৭টি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার দিকেও নজর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভারত সরকার জানিয়েছে যে হজযাত্রীদের কল্যাণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পুরো হজ যাত্রা পর্বে কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্রমাগত সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের একটি নিরাপদ এবং আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণ যাত্রা নিশ্চিত করতে সমস্ত সরকারি নির্দেশিকা, স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।


