হেট স্পিচ, অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য। সোমবার এই বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এক মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি এ এম খানওয়াইলকর ও সঞ্জয় খান্নার বেঞ্চ বলেছে হেট স্পিচ আর বাক স্বাধীনতাকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। হেট স্পিচ প্রকৃতপক্ষে ভারতের মতো বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক দেশে সাম্যের অধিকারকে লঙ্ঘন করে। আদালত 'বিদ্বেষ বচন' এবং 'মুক্ত বচন' চিহ্নিত করার জন্য পরীক্ষা প্রক্রিয়া চালু করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলিকে অপরাধ বলে গন্য করার সুপারিশ করেছে।

এদিনের রায়ে ভারতের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, 'ফ্রি স্পিচ' বা মুক্ত বচন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে সীমানা টানাটা খুবই দরকার হয়ে পড়েছে। আদালতের মতে সরকারী নীতিগুলির পক্ষে বা সমালোচনা করার অধিকার অবশ্যই বাক স্বাধীনতা বা ফ্রি স্পিচ। যা সাধারণত রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরি করা বা ছড়িয়ে দেওয়াটা হেট স্পিচ। এই ক্ষেত্রে বিষয়টা বড় নয়, বরং সেই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কতটা অবমাননা করা যাচ্ছে, কতটা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যাচ্ছে তার দিকে জোর দেয়।

আরও পড়ুন - বাংলাদেশ কি চলে যাবে ইসলামি চরমপন্থীদের হাতে - ভয় ধরাচ্ছে হেফাজত-এ-ইসলাম, দেখুন ছবিতে ছবিতে

আরও পড়ুন - চেয়েছিলেন 'গুলি খাওয়ার অনুমতি', ১১ দিন পর মিলল নৌসেনার পাইলটের নিথর দেহ

আরও পড়ুন - ম্যাক্রঁ-র সঙ্গে হাত মেলালেন মোদী, ইসলামি বিশ্বে বিদ্বেষের মধ্যেই ভারত দিল আশ্বাস

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তি মর্যাদা রক্ষা করা এবং বর্ণ, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, পরিচয়, লিঙ্গ, ভাষা ইত্যাদি নির্বিশেষে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার জন্যই হেট স্পিচ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অপরাধিকরণ প্রয়োজন। আদালত আরও বলেছে, যে ব্যক্তি মর্যাদা সমাজের সদস্য হিসাবে প্রতিটি ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক সাম্য, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার। কাজেই হেট স্পিচ মানহানির মতো ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের মর্যাদা-কে আঘাত করে। বহু-সংস্কৃতির সাম্যবাদি সমাজে তা বিভেদ সৃষ্টি করে। সহিষ্ণুতা, মুক্তমনোভাবকে আঘাত করে।