উত্তরপ্রদেশের হাথরসে দলিত যুবতীকে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল বলে নিশ্চিতভাবে জানালো সিবিআই। শুক্রবার তারা এই মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধেই গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি দলিত নির্যাতন প্রতিরোধ আইনেও মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তিন মাসের মধ্যেই অভিযোগপত্র জমা দিল সিবিআই।

গত ২০ সেপ্টেম্বর হাথরসে এক ২০ বছর বয়সী দলিত যুবতীকে গণধর্ণণ করার অভিযোগ উঠেছিল তথাকথিত উচ্চ বর্ণ ভুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে। পরে দিল্লির এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই যুবতীর। ৩০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ওই যুবতীর পরিবারের অনুমোদন ছাড়াই তাঁর দেহ দাহ করার অভিযোগ ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে ধর্ষণ হয়নি বলে জানানো হয় ময়না তদন্তের রিপোর্টে। যার ফলে সারা দেশে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এমনকী উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে ওই পরিবারকে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছিল। বেশ কয়েকদিন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতাদেরও ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

গত অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই-এর তদন্ত পর্যবেক্ষণ করার ভার দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট-কে। এর মধ্যে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত জেল থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছিল, তাকে এবং বাকি তিন অভিযুক্তকে ফাঁসানো হচ্ছে। মৃতা তরুণীর মা এবং ভাই-ই তাঁকে নির্যাতন করেছে বলেও অভিযোগ করেছিল। মৃতার পরিবার সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে, সিবিআই আদালতের কাছে এই তদন্ত শেষ করতে আরও সময় চেয়েছিল। গত বুধবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ, এই মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ দিয়েছিল ২৭ জানুয়ারি। এদিনই অবশ্য চার্জশিট দাখিল করল সিবিআই।