বর্ষা এসে গিয়েছে গোটা দেশে। বাংলাতেও শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। কিন্তু এবার দক্ষিণবঙ্গে আর তেমনভাবে দেখা মিলছে না নিম্নচাপের। জুলাই মাসে একটিও নিম্নচাপ জোটেনি গাঙ্গেয় বঙ্গের কপালে। অগস্টে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হলেও দক্ষিণবঙ্গে তেমন ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী বৃহস্পতিবার নাগাদ ফের উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ দানা বাঁধতে চলেছে। কিন্তু সেটিও রাজ্যে তেমন বৃষ্টি দেবে না বলেই কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। 

মঙ্গলবার শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমান ৯২ % । এলাকার কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। এছাড়া রাতের দিকেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টি বিপর্যয়, ছাদ হারালেন স্বয়ং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরি

গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি তেমন না হওয়ায় অস্বস্তিকর গরম বাড়ছিল কলকাতা ও শহরতলীতে। যদিও মধ্যরাতে শহর এবং শহরতলির কিছু জায়গায় বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। তবে বেলা বাড়তেই ফের রৌদ্রজ্বল আবহাওয়ার দেখা মিলেছে। 

হাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল উত্তর ও সংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপ তৈরি হবে। এর জেরে পূর্ব ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টি হবে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড় ও মধ্যপ্রদেশে। ওডিশা ও ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। 

আরও পড়ুন: উপত্যকার রাজনীতিতে হলচল, মাত্র ১৬ মাসেই নিজের তৈরি দল ছাড়লেন আইএএস টপার শাহ ফয়জল

 ভারতের দুই রাজ্যে ভয়ঙ্কর বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কর্ণাটকের ৭ জেলায় অতিবৃষ্টির সতর্কতার সাথে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। পাশাপাশি, দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের একবার সক্রিয় হয়ে মহারাষ্ট্রের উপকূল অঞ্চলে বৃষ্টি ঘটাবে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া দফতর সূত্রে। তামিলনাড়ুতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে মৌসম ভবন। 

মৌসুমি অক্ষরেখা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান করার ফলে  উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি পঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশে রয়েছে বৃষ্টির আশঙ্কা। পাশাপাশি হাওয়া অফিস এও জানাচ্ছে যে মৌসুমী অক্ষরেখাও দক্ষিণবঙ্গের উপর অবস্থান করছে। তাই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।