হিমাচল প্রদেশে নতুন করে বৃষ্টির জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত। ৭৫টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহও ব্যাহত। আবহাওয়া দপ্তর আগামী পাঁচ দিনের জন্য ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে।

হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড়সড় সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (SDMA) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে ৭৫টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও ২৯টি বিদ্যুৎ ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার (DTR) এবং পাঁচটি জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ও সতর্কতা

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, শুক্রবার সিমলা এবং সিরমৌরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোলানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কুলু, মান্ডি, কিন্নর, হামিরপুর এবং চাম্বায় মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কাংড়া, উনা এবং বিলাসপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং লাহুল-স্পিতিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

IMD হিমাচলের বেশ কয়েকটি জেলার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। আগামী পাঁচ দিন ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং স্থানীয়ভাবে হড়পা বানের ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে। দপ্তর আরও জানিয়েছে, কিন্নর এবং লাহুল ও স্পিতির মতো উঁচু জায়গাগুলিতে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে আগামী কয়েকদিনে রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

সিমলা শহরের জন্য IMD জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে কয়েক পশলা ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃষ্টির মধ্যেও পর্যটকদের ভিড়

এদিকে, এই বৃষ্টির মধ্যেই পর্যটকরা সিমলায় ভিড় জমাচ্ছেন। তাঁরা রাজধানীর শীতল আবহাওয়া, মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ উপত্যকা এবং বৃষ্টির পরের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং দেশের অন্যান্য অংশ থেকে আসা পর্যটকদের কাছে বৃষ্টির পরের সিমলা এক অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পর্যটন ব্যবসায় এখন অফ-সিজন চললেও পর্যটকদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। পর্যটকরা জানিয়েছেন, শৈলশহর ঘুরে দেখতে তাঁরা যথেষ্ট সুরক্ষিত বোধ করছেন।