নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ফাটল নিয়ে জল্পনার মাঝেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিরোধীদের আক্রমণকে 'রাজনৈতিক প্রচার' বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ চলছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এমন রিপোর্ট সামনে আসার পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার তিনি এই বিষয়ে মুখ খোলেন। তিনি সাফ জানান, নির্বাচন কমিশনে যেকোনো সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সর্বসম্মতির ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। বিরোধীদের সমালোচনাকে তিনি স্রেফ 'হতাশা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রতিক্রিয়া

গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বলেন, "মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য কমিশনাররা সংখ্যালঘু হলে কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এটি একটি যৌথ সংস্থা। তাই কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নিতে হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সারা দেশে এমন বার্তা দেওয়াটা একেবারেই সংবিধান বিরোধী।"

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইনের ১৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের সংস্থা হিসেবে কাজ করে। এখানে সিইসি এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সমান ভোটাধিকার রয়েছে। হিমন্ত মনে করিয়ে দেন, আইনিভাবে অন্য দুই কমিশনার যদি যৌথভাবে কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন, তবে সিইসি তা বাতিল করতে পারেন না। তাই চূড়ান্ত নির্দেশের ক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই অসম্ভব।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আলোচনার আগে কোনো সিদ্ধান্ত বা মতামত প্রকাশ করাটা আলাদা বিষয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতেই নেওয়া হয়। সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করাটা নিছকই একটা রাজনৈতিক প্রচার।"

বিরোধীদের নিশানা অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

সিইসি-কে একজন স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে তুলে ধরাটা কমিশনের আইনি কাঠামোর ভুল ব্যাখ্যা, এমনটাই দাবি করেন হিমন্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কমিশনের যেকোনো চূড়ান্ত নির্দেশে পুরো প্যানেলের অনুমোদন লাগে। অর্থাৎ, সিইসি সম্পূর্ণ একা কাজ করছেন, এমন দাবি সাংবিধানিক নিয়মের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি না যে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাই তাঁকে নিশানা করাটা আসলে বিরোধী এবং 'দিমাগি নকশাল'-দের হতাশারই প্রতিফলন।"

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সম্প্রতি 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক একটি বিশেষ অ্যাক্সেস চালু করার জন্য সাত দিনে আটবার দিল্লিতে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এরপরেই হিমন্তের এই মন্তব্য সামনে এল। এর আগে আরও একটি মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

এদিকে, রাজ্যের প্রশাসনিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনের দিনক্ষণও ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীক ছাড়াই হবে। হিমন্ত বলেন, "আমরা নভেম্বরে মিসিং অটোনোমাস কাউন্সিল এবং সোনোয়াল অটোনোমাস কাউন্সিলের নির্বাচন করব। দুটি নির্বাচনই দলবিহীন হবে।"