বুধবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক তুলে দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আর তার জায়গায় ফিরে আসল শিক্ষা মন্ত্রক। এই বিষয়ে এদিন বিকেল ৪টেয়  এক সাংবাদিক সম্মেলন করবেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এবং রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। ওই সাংবাদিক বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম বদলের কথা ঘোষণা করা হবে। সেইসঙ্গে ঘোষিত হবে নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিও।

উল্লেখ্য স্বাধীনতার পর থেকে পরের তিন দশকেরও বেশি সময় কেন্দ্রীয় সরকারি মন্ত্রকটিক নাম ছিল শিক্ষা মন্ত্রক। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সময়ে শিক্ষা মন্ত্রক তুলে দিয়ে প্রবর্তন করা হয়েছিল মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের। কিন্তু, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিক্ষা নীতি এবং মন্ত্রকের এই নাম বদলের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ মেনেই এদিন এই নাম বদল করা হয়।

এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অনুমোদিত হয় নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি। ভারতে রাজীব গান্ধীর আমলেই ১৯৮৬ সালে প্রথমবার জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহীত হয়েছিল। এরপর ১৯৯২ সালে একবার তাতে রদবদল ঘটানো হয়েছিল। তারপর থেকে জাতীয় শিক্ষানীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ২০১৯ সালের মে মাসে মোদী সরকার নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি-র খসড়া উপস্থাপন করে সংসদে। এই শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে উন্নত মানের শিক্ষা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক জানিয়েছেন এই নতুন শিক্ষানীতি, শিক্ষাখাতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবে। যুব সমাজের জন্য উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ আরও সহজ করে তুলবে। করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ মাথায় রেখে শিক্ষা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই একাধিক পরিকল্পনা চালু করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে স্বনির্ভর ভারত গঠনের কথা মাথায় রেখে।