ক্রমশই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে করোনাভাইরাস। অ্যান্টার্কটিকা বাদে ৬টি মহাদেশের ছড়িয়ে পড়েছে এই জীবানু এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ১২৪টি দেশে পড়েছে করোনার প্রকোপ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ হাজার। যার মধ্যে শুধু চিনেই মৃত্যু হয়েছে তিন হাজেরেরও বেশি মানুষের। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। ভারতেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একশও ছুঁই ছুঁই। এই পরিস্থিতিতে করোনাকে বিশ্বব্যাপী মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দ্বিতীয়বারের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ঘোষণা রীতিমত বিপাকে পড়েছেন ভারতের করোনা আক্রান্তরা। কারণ কোনও রোগকে বিশ্বব্যাপী মহামারি বা শুধু মহামারী ঘোষণা করা হলে বিমা কোম্পানি গুলি এড়িয়ে যেতে পারে নিজেদের দায়। 

আরও পড়ুনঃ দিল্লির হিংসায় আর্থিক সাহায্য হাফিজ সইদের, তেমনই বলছে সূত্র

কিছু দিন আগেই ইন্সিওরেন্স রেগুলেট্রারি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইআরডিওআই) বিমা সংস্থা গুলির কাছে আর্জি জানিয়েছিল অবিলম্বে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য টাকার ব্যবস্থা করতে। যাদের স্বাস্থ্য বিমা করা রয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা দিয়ে দিতে হবে বলেও জানিয়েছিল। 

আরও পড়ুনঃ সিএএ আন্দোলনকারীদের পোস্টার মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা যোগী সরকারের

আইআরডিওআই-র এই আবেদনের পরই কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন আক্রান্তরা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণার পরই সংশয় দানা বেঁধেছিল। কারণ একাধিক বিমা সংস্থার আধিকারিক জানিয়েছিলেন, সবক্ষেত্রে বিমান টাকা পাবে না আক্রান্তরা। ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরই বিমার টাকা দাবি করতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি না হলে টাকা পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকবে বলেও জানান হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাঁর অন্য রোগও রয়েছে। সেই ক্ষেত্র আবেদনকারী নিয়ম অনুযায়ী টাকা পেতে পেরেন। অপর এক বিমা সংস্থার আধিকারিক জানিয়েছেন ভারত সরকার বা বিশ্ব স্বাস্থ্য  সংস্থা যদি করোনাকে মহামারী ঘোষণা করে তবে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। কারণ স্বাস্থ্যবিমার নিয়ম অনুযায়ী বলা হয়েছে মহামারি ঘোষণা হলে বিমা সংস্থা টাকা দিতে বাধ্য থাকবে না। 

আরও পড়ুনঃ তামিল রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতেই নতুন দল, ঘোষণা থালাইভা রাজনীকান্তের

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের প্রকোপকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করেছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতেই পারে বিমা কোম্পানি গুলি। বিশ্বে যেমন কনোরা প্রকোপ বাড়ছে তেমনই শোচনীয় অবস্থা হচ্ছে ভারতের। করোনা রুখতে একগুচ্ছ পদপেক্ষ নিয়েছে ভারত সরকার। বিমান বন্দরেই যাত্রীদের পরীক্ষা শুরু করা হয়েছি। কিন্তু তাতেই আটকানো যায়নি প্রকোপ। তাই আরও বাড়াবাড়ি রুখতে ইতিমধ্যে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত ভিসা বাতিল করা হয়েছে।