ভারতের বাজারে এভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে থাকলে টানাপোড়েনে পড়তে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই। এমন সতর্কবার্তা শোনাল আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার বা আইএমএফ। 

আইএমএফ- এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এভাবেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকলে সুদের হার কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিকল্প খোলা থাকবে না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক-এর সামনে। সতর্ক করে আইএমএফ জানিয়েছে, ভারতীয় অর্থনীতিতে মন্দা যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। 

২০১৯ সালের একটি রিপোর্টকে উল্লেখ করে আইএমএফ দাবি করেছে, প্রত্যাশার থেকেও ধীর গতিতে এগোচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতি। শুধু তাই নয়, কমে গিয়েছে উৎপাদনের হারও। এই অবস্থায় শুধুমাত্র সুদ কমিয়ে  পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সুযোগ যে রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক-এর সামনে থাকবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আইএমএফ। 

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি মন্দা থেকে বেরিয়ে আসতে ভারতীয় অর্থনীতির অনেকটাই সময় লাগবে। এই অবস্থায় আরবিআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রেখে এই মুহূর্তে আর নতুন করে সুদের হার কমানো হবে না।  রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অবশ্য মুদ্রাস্ফীতির হার কমিয়ে আনা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন। গত কয়েকমাস ধরে যা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। সেই কারণেই শেষ পর্যালোচনা বৈঠকে রেপো রেটও অপরিবর্তিত রেখে আরবিআই-এর মনিটারি পলিসি কমিটি। 

আরও পড়ুন- গ্রাহকেদর বিক্ষোভে উত্তাল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সদর দফতর, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন- পাকিস্তানের জন্য মুদ্রাস্ফীতি ভালো, পাক মন্ত্রীর বক্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক

আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের অবশ্য দাবি, রেপো রেট কমানোর মতো যথেষ্ট সুযোগই আরবিআই-এর সামনে আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে চান। সময়মতোই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি আরবিআই গভর্নরও মু্দ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

ভারতের বাজারে খুচরো পণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে নভেম্বর মাসে। অথচ, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যবর্তী সময়ে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে মুদ্রাস্ফীতির হারও গত বছরের তুলনায় নভেম্বর মাসে ১০.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আরবিআই-এর চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষেত্রেও মন্দা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।