লাদাখে ভারত চিন সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমশই বাড়েছে। এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে দুই দেশই সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে। যা নিয়ে রীতিমত উত্তেজনার পাদর চড়ছে দুই দেশের মধ্যে। সেনা সূত্রের খবর মূলত পাঁচটি এলাকায় লাইন অব অ্যাক্চুয়াল কন্ট্রোল নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। 

প্যানগং-এ সংঘর্ষের পরই জানাগেছে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে চিনা সেনা। যেসব এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে সেগুলি হল  ডেমচেক, প্যানগং লেক, গালওয়ান নদী অববাহিকা ও গোগরা পোস্ট। দৌলত বেগ ওল্ডি অঞ্চলেও উত্তেজনা রয়েছে। 

দৌলত বেগ ওল্ডি এলাকায় ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান অবতরণ করতে পারে। অস্থায়ী এয়ার বেস রয়েছে। ইতিমধ্যেই সি১৩০ হারকিউলিস বিমান অবতরণ করেছে। কিন্তু এই অঞ্চল শীতকালে রীতিমত দুর্গম হয়ে ওঠে। প্রবল তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি এই এলাকায় ভারতীয় সেনাদের অবস্থান রীতিমত কঠিন হয়ে পড়ে। 

গতবছর একটি রাস্তা তৈরির কাজ সমাপ্ত করেছে ভারত সরকার। যা দক্ষিণের দুবকুক ও উত্তেরের দৌলত বেদ ওল্ডিকে যুক্ত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং চেওয়াং রিনচেন সেতুও তৈরি করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত  এই সেতু সব মরশুমের উপযোগী। যা নিয়ে রীতিমত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চিন। এক কাছাকাছি এলাকায় শিয়ক নদী। যা উত্তর লাদাখের লাইন অব অ্যাক্চুয়াল কন্ট্রোল থেকে খুব একটা দূরে নয়। 

গ্যালওয়ান ও শিয়াক নদী যেখানে মিশেছে সেই অঞ্চলেই চিনা সেনা অনুপ্রবেশ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট ইমেজের ছবিতে দেখা যাচ্ছে চিনা সেনার ছাউনি তৈরি হয়েছে। যেখানে এয়ার বেশ তৈরি করে যুদ্ধবিমান মজুত করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। এর সামনেই গোগরা পোস্ট। 

গোগরা পোস্ট সংলগ্ন এলাকাতেও চিনা সেনা জমায়েত করেছে বলে সূত্রের খবর। দক্ষিণ লাদাখের দেমচেক অঞ্চলেও সীমান্ত উত্তাপ বাড়ছে। এই এলাকায় চিনারা ভারী যুদ্ধ সরঞ্জাম জড়ো করেছে বলে সূত্রেরখবর। 

গত ৫ ও ৬ মে প্যানগং লেক সংলগ্ন এলাকায় কর্তব্যরত ভারতীয় ও চিনা সেনা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। আগেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল সিকিম সীমান্তে। সীমান্ত উত্তাপ কমাতে দুই দেশের সেনা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি।