প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁর জাপানি প্রতিপক্ষ শিনজিরো কোইজুমির সঙ্গে দেখা করবেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত করা। আলোচনায় উঠে আসবে সমুদ্র নিরাপত্তা, 'মেক-ইন-ইন্ডিয়া'-র আওতায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলি।

বৃহস্পতিবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আশা করা হচ্ছে, এই বৈঠকের ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। এর পাশাপাশি কৌশলগত বিশ্বাস ও সহযোগিতা বাড়বে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বাড়বে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

নজরে সমুদ্র নিরাপত্তা ও 'মেক-ইন-ইন্ডিয়া'

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রী সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আলোচনা করবেন। এছাড়া 'মেক-ইন-ইন্ডিয়া' কাঠামোর আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও কথা হবে। জাপান সম্প্রতি তাদের 'প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত তিনটি নীতি' সংশোধন করেছে, যার পরেই এই বৈঠকটি হচ্ছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

নৌবাহিনীর পশ্চিম কমান্ড পরিদর্শন জাপানের মন্ত্রীর

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি প্রথমবার ভারত সফরে এসেছেন। বুধবার তিনি মুম্বইতে নৌবাহিনীর পশ্চিম কমান্ড পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন এবং পশ্চিম নৌ কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বৎসায়নের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদলকে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভূমিকা, দায়িত্ব এবং অপারেশনাল ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। পশ্চিম নৌ কমান্ডে পৌঁছনোর পর তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এর আগে তিনি নেভাল ডকইয়ার্ডের গৌরব স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তিনি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ আইএনএস চেন্নাইও পরিদর্শন করেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা নিয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

একটি মুক্ত, অবাধ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে ভারত ও জাপান উভয়েরই একই দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই দু'দিনের সফর দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গতিকে তুলে ধরেছে। এই অংশীদারিত্বকে আরও প্রসারিত করতে দুই দেশই যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা এই সফর থেকে স্পষ্ট। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি এসেছিলেন। সেই বৈঠকেই দুই পক্ষ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছিল। (এএনআই)