Oil Reserves: ভারতের তেল ভাণ্ডার নিয়ে বড় তথ্য! কয়েক মাস নয়, চলবে মাত্র ২০-৪০ দিন
India Crude Oil Reserve: পশ্চিম এশিয়ার সংকট পরিস্থিতিতে ভারতে ঠিক কত দিনের তেল মজুত রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটারি বোর্ড। জানিয়েছে মজুত তেল দিয়ে ঠিক কত দিন চলবে.

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত
ক্রমশই দীর্ঘ হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। এই অবস্থায় ভারতের জ্বালানি তেলের কী অবস্থা? তা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা ক্রমশই বাড়ছে। শেষপর্যন্ত মুখ খুলেছে PNGRB। সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ভারতে ক্রুড অয়েলের যে সঞ্চয় রয়েছে তা দিয়ে ঠিক কত দিন চলবে।
PNGRB মন্তব্য
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ডের (PNGRB) সচিব অঞ্জন কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, ভারতের মজুত অপরিশোধিত তেল দিয়ে কয়েক মাস চালানো সম্ভব নয়। এই ভাণ্ডার দিয়ে বড়জোর ২০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যেতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট ভারতকে প্রভাবিত করলেও সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
২০-৪০ দিন চলবে
ভারতের কাছে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত আছে, তা দিয়ে মাত্র ২০ থেকে ৪০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। কয়েক মাস ধরে চলার মতো জ্বালানি দেশের ভাণ্ডারে নেই। এমনটাই জানালেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ডের (PNGRB) সচিব অঞ্জন কুমার মিশ্র।
৬ মাস চলার মত পর্যাপ্ত তেল নেই
তিনি সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেন, "আমাদের কাছে তরল জ্বালানির কিছু রিজার্ভ আছে ঠিকই, কিন্তু তা দিয়ে ছয় মাস চালানো যাবে, এমনটা ভাবা ভুল। এই ভাণ্ডার দিয়ে ২০ থেকে ৪০ দিন চলতে পারে, কিন্তু ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে চালানো সম্ভব নয়।"
ভারতে প্রভাব পড়েছে
দিল্লিতে PHDCCI-এর হাইড্রোকার্বন সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মিশ্র আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংকট ভারতকে প্রভাবিত করছে। তবে সরকার সবরকম পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে
তাঁর কথায়, "পশ্চিম এশিয়ার সংকট যে ভারতকে প্রভাবিত করছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কিন্তু সরকার সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে এবং আমরা খুব কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।"
জীবাশ্ম জ্বালানির অবস্থা
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার আবহে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন পিএনজিআরবি-র এই কর্তা। তিনি বলেন, দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির (fossil fuel) কোনও অভাব নেই।
তিনি বলেন, "যদি কোনও আতঙ্ক তৈরিও হয়, তবে মনে রাখতে হবে সেটা শুধুই আতঙ্ক। দেশে তরল জ্বালানির কোনও সংকট নেই।"
ভারত সাহায্য করছে প্রতিবেশীদেরও
মিশ্র আরও জানান, এই সংকটের সময়ে ভারত প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকেও সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে সমর্থন করেছি, শ্রীলঙ্কাকেও সাহায্য করেছি। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।"
অপরিশোধিত তেল উৎপান
আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়ানো একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও রাতারাতি তা সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত শুধুমাত্র পশ্চিম এশিয়া নয়, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকেও তেল আমদানি করছে। মোজাম্বিক ও অ্যাঙ্গোলার মতো বিকল্পও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধি
সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম বিপুল বাড়তে পারে কিনা, এই আশঙ্কার জবাবে মিশ্র বলেন, দাম বাড়লেও তা সাময়িক হবে। তিনি বলেন, "যদি দাম বাড়েও, আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব... যেটুকু মূল্যবৃদ্ধি হবে, তা খুবই অস্থায়ী।" তাঁর মতে, সংকট কেটে গেলে দাম আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে পারে।

