করোনা মহামারির সঙ্গে খেলার শেষ পর্যায়ে রয়েছে ভারত এবং এই পর্বে পৌঁছাতে রীতিমত সফল হয়েছে ভারত। রবিবার এমনটাই বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। একই সঙ্গে তিনি বলেন করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচি নিয়ে কোনও রকম রাজনীতি করা ঠিক নয়। তিনি বলেন ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও রকম গুজব না ছড়িয়ে বিজ্ঞানের ওপরই আস্থা রাখাই শ্রেয়। প্রিয়জনরা যাতে ঠিক সময় প্রতিষেধক পান তাও নিশ্চিত করা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী। 


হর্ষ বর্ধনের কথায় কোভিড ১৯ নির্মূলের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে ভারত মহামারির বিরুদ্ধে খেলার প্রায় শেষ পর্বে রয়েছে। এই পর্বে সাফল্য অর্জনের জন্য ভারতকে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেগুলি হলে- ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ভ্যাকসিনের পিছনে বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখতে হবে। আত্মীয় ও প্রিয়জনদের সময় মত টিকা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন সরকার করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচিতে গতি আনার জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাও করেছেন। হাসপাতালগুলি চাইলে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা টিকা দিতে পারে। করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণের জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

রবিবার ধর্মশিলা নারায়ণ হাসপাতালের উদ্যোগে দিল্লি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ৬২ তম বার্ষইক দিল্লি স্টেট কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেন, এপর্যন্ত দেশে ২ কোটি কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। টিকা প্রদানের হারও দৈনিত ১৫ করে বাড়ানো হচ্ছে। অন্যান্য দেশের মত ভারতও করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ করছে। যার প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। ভ্যাকসিন নিরাপদ বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারতের তৈরি ভ্যাকসিনগুলি কোথাও টিকা দানের পরে বিরুপ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা বিশ্বের অন্যত্র হয়েছে । 

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন দরিদ্র ও অনুন্নত দেশগুলি করোনাভাইরাসের ওপর গুরুত্ব না দেয় তবে ভারত সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে না। ভ্যাকসিনের সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত বিতরণ করার সময় জরুরি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ভারত বিশ্ব ফার্মেসি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখনও পর্যন্ত ৬২টি দেশে ৫ কোটি ৫১ লক্ষ টিকা পাঠান হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে আন্রর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভারত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।