যখন একটি নির্দিষ্ট আকাশসীমা অসামরিক বিমান চলাচল থেকে মুক্ত করার প্রয়োজন হয় তখন একটি নোটাম জারি করা হয়। যাতে কোনও যাত্রীবাহি বিমান ওই সময়কালে ওই আকাশসীমায় চলে না আসে।
আবারও বঙ্গোপসাগরে নোটাম (NOTAM) জারি করেছে ভারত। বঙ্গোপসাগরের একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য এই নোটাম (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুসারে, নোটামের পাল্লা প্রায় ২,৫৩০ কিলোমিটার। তাই মনে করা হচ্ছে ভারত দূরপাল্লার কোনও মিসাইল টেস্ট করতে পারে। এই নোটাম বিজ্ঞপ্তিটি ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যা এই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আকাশসীমা নির্দেশ করে। NOTAM জারি করার ফলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে ভারত সমুদ্র-ভিত্তিক মিসাইল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, সরকারি তরফে কোনও কিছুই বলা হয়নি। নিরাপত্তা এবং সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য সমুদ্রের উপর পরিচালিত বড় কৌশলগত পরীক্ষার আগে নিয়মিতভাবে এই জাতীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
NOTAM কী?
যখন একটি নির্দিষ্ট আকাশসীমা অসামরিক বিমান চলাচল থেকে মুক্ত করার প্রয়োজন হয় তখন একটি নোটাম জারি করা হয়। যাতে কোনও যাত্রীবাহি বিমান ওই সময়কালে ওই আকাশসীমায় চলে না আসে। এটি বাণিজ্যিক বিমানগুলিকে সামরিক কার্যকলাপের অঞ্চল থেকে দূরে রাখতেই জারি করা হয়, যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।
কেন একটি নোটাম জারি করা হয়?
একবার একটি নোটাম জারি করা হলে, কোনও অসামরিক বিমানকে নির্ধারিত আকাশসীমার মধ্যে উড়তে দেওয়া হয় না। এটি বিমান বাহিনীর জেট, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলিকে মাঝ আকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি ছাড়াই অবাধে চলাচল করতে দেয়। অসামরিক বিমানের অনুপস্থিতি সেনাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের উপর ৩,২৪০ কিলোমিটার বিস্তৃত অংশের জন্য একই ধরনের নোটাম জারি করা হয়েছিল।
চলতি মাসেই ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী গাইডেড মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) একটি চলমান টার্গেটের বিরুদ্ধে এই মিসাইলের টেস্ট করেছে। মিসাইলটি একটি ট্রাইপড বা সামরিক যান থেকে ছোড়া যেতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে যে ১১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের আহিল্যা নগরের কে কে রেঞ্জে তৃতীয় প্রজন্মের ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের (MPATGM)র পরীক্ষা করা হয়। দেশীয়ভাবে তৈরি এই মিসাইলটিতে ইমেজিং ইনফ্রারেড (IIR) হোমিং সিকার, একটি ইলেকট্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, একটি ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, একটি ট্যান্ডেম ওয়ারহেড, একটি প্রপালশন সিস্টেম এবং একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সাইটিং সিস্টেমের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
ইমেজিং ইনফ্রারেড (IIR) হোমিং সিকার দিন ও রাতের উভয় যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই কাজ করতে সক্ষম। ওয়ারহেডটি আধুনিক প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্কগুলিকে ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মিসাইলটি একটি ট্রাইপড বা সামরিক যান থেকে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এই মিসাইলের উন্নয়ন ও উৎপাদন অংশীদার।


