কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীই একমাত্র নেতা যিনি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে (PoJK) ভারতের সঙ্গে জুড়তে পারেন। তিনি ১৯৯৪ সালের একটি প্রস্তাবের কথা মনে করিয়ে দেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তান ও OIC-র মন্তব্য খারিজ করে ভারত PoJK-তে চলা অশান্তি ও দমনপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং শুক্রবার পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (PoJK) নিয়ে সরকারের কড়া অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই একমাত্র নেতা যিনি এই অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার মতো "অমীমাংসিত বিষয়টি"-র সমাধান করতে পারেন। ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ১৯৯৪ সালের সর্বসম্মত সংসদীয় প্রস্তাবের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, জম্মু, কাশ্মীর এবং লাদাখের সম্পূর্ণ অংশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বিজেপিও সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল। অধিকৃত অঞ্চলের মানুষের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ইসলামাবাদ PoJK-র বাসিন্দাদের বরাবর "দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক" হিসেবে দেখে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৯৪ সালের প্রস্তাবে অখণ্ড ভারতের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা পূরণ করার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরই আছে।

তিনি বলেন, "ইসলামাবাদ বরাবর PoJK-কে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখেছে। ১৯৯৪ সালে সংসদে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বিজেপি সর্বসম্মতিক্রমে তার পক্ষে ভোট দেয়। সেখানে বলা হয়েছিল, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই। যদি কোনও অমীমাংসিত বিষয় থাকে, তবে তা হল PoJK এবং কীভাবে তাকে আবার ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অংশ করা যায়। যদি এটা হয়, তবে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীই তা করতে পারবেন। আর কেউ পারবেন না।"
মন্ত্রীর এই মন্তব্য পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে সরকারের ধারাবাহিক অবস্থানেরই প্রতিফলন, যেখানে ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলে বারবার জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তান ও OIC-র অভিযোগ খারিজ করল ভারত
এর আগে রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তান এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংগঠন (OIC)-এর তরফে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে করা মন্তব্য ও অভিযোগ তীব্রভাবে খারিজ করে দেয় ভারত। ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, জম্মু ও কাশ্মীর "ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।" রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলের (UNHRC) ৬২তম অধিবেশনে ভারতের জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের পার্মানেন্ট মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং এই কথা বলেন। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার মতো বিষয় থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।
অনুপমা সিং বলেন, "পাকিস্তান এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংগঠনের তরফে করা মন্তব্যের জবাবে ভারত তার জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা পাকিস্তানের করা ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক অভিযোগ স্পষ্টভাবে খারিজ করছি। আমরা OIC-র তরফে জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত মন্তব্যও খারিজ করছি। পাকিস্তানের এই প্রচারের উদ্দেশ্য হল নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার বিষয়টি লুকিয়ে রাখা। OIC কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকার অপব্যবহার করে তারা এই প্রতারণাকেই আরও শক্তিশালী করছে।"
জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সিং বলেন, "জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল পাকিস্তানের বেআইনিভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ড এবং তার প্রত্যাবর্তন।"
PoJK-তে অশান্তির প্রসঙ্গ তুলল ভারত
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান আসলে পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) পরিস্থিতি থেকে বিশ্বের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে। কারণ, সেখানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ এবং অশান্তি তীব্র হয়েছে। অনুপমা সিং বলেন, "রাওয়ালাকোটে যা ঘটছে, শত শত সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং গোটা পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে নৃশংস দমনপীড়ন—এ সবই জোর করে দখলদারি এবং নির্যাতনের মাধ্যমে তৈরি করা একটি ব্যবস্থার প্রত্যাশিত ফল। কয়েক দশক ধরে সেনা দিয়ে জমি দখল, জনসংখ্যার চরিত্র বদলের চেষ্টা এবং ন্যূনতম স্বাধীনতা হরণ করার ফলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এখন রুটি, বিদ্যুৎ, অধিকার এবং সম্মানের দাবি করলেও গুলি আর অত্যাচার জুটছে।"
তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ১৪ জুন রাওয়ালাকোটে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের খবর পাওয়া গিয়েছে। জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JKJAAC) মতে, ঈদগাহ এলাকায় ধর্নায় বসা বিক্ষোভকারীদের হঠাতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এই গোষ্ঠীর অভিযোগ, এই ঘটনায় অন্তত দু'জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।


