সীমান্তে সংঘর্ষ তাঁরা চান না, অবশেষে নীরবতা ভেঙে জানাল চিন। সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানান, বিষয়টির নিষ্পত্তিতে দুই দেশই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনাও চলছে। এরপরেই তিনি যোগ করেন, 'চিন আরও সংঘর্ষ দেখতে চায় না।'

সোমবার রাতে দুই তরফের মধ্যে চলবা সংঘর্ষ নিয়ে বুধবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন  চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানও। যদিও সমীন্ত সংঘর্ষে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেই সম্পর্কে এখনও নীরবতা বজায় রেখেছে চিন। তবে সৈনিক মৃত্যু নিয়ে চিন নিজে মুখ না খুললেও মার্কিন মিডিয়া দাবি করছে ১৫ জুন রাতের সংঘর্ষ পিএলএর অন্তত ৩৫ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। 

এদিকে মুখে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও এখন গালওয়ান উপত্যকাকে নিজের বলে দাবি করে চলেছে বেজিং। যদিও গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে চিনের কোনও ভিত্তিহীন দাবি যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিল ভারত। বুধবার মধ্যরাতেই  চিনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবিকে উড়িয়ে দিল নয়াদিল্লি। একইসঙ্গে বেজিংয়ের দাবি 'অতিরঞ্জিত এবং অসমর্থনীয়' বলে সাফ জানাল ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

আরও পড়ুন: ফের একবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য হল ভারত, এই নিয়ে অষ্টমবার নির্বাচিত

বুধবার মধ্যরাতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব একটি বিবৃতি দেন। যাতে বলা হয়েছে, ‘বুধবারই চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফোনে কথা হয়েছে। দুই দেশই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে রাজি হয়েছেন। গত ৬ জুন আর্মি অফিসারদের বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী, তাঁরা সমঝোতায় আসতে চেয়েছেন। কিন্তু বেজিংয়ের এই ধরনের মন্তব্য সেই সমঝোতার পরিপন্থী ও সমর্থনযোগ্য নয়।’

গত মঙ্গলবার দুই দেশের সেনার সংঘর্ষ নিয়ে সাউথ ব্লকের বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা পরেই চিনা সেনার পশ্চিম থিয়েটার কম্যান্ড ঝ্যাং শুইলি প্রথম দাবি করেন, ‘গালওয়ান উপত্যকা এলাকার উপরে চিনের সার্বভৌমত্ব রয়েছে।' অর্থাৎ গালওয়ান উপত্যকা নাকি বরাবর চিনের অংশ ছিল। একইসঙ্গে সেনা সংঘর্ষের দায় ভারতের উপর চাপিয়ে অভিযোগ করেন, ভারতীয় সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেছে। যদিও সে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বরং চিনা সেনাই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা টপকেছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: চিন ও পাকিস্তানের সমর্থনেই মিলল সদস্যপদ, ভারতের বড় কূটনৈতিক জয় দাবি মোদী সরকারের

এরমধ্যেই চিনা বিদেশ মন্ত্রকও পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) আধিকারিকের সেই দাবির সমর্থনে কথা বলে। এরপরেই প্রতিবেশীর ভিত্তিহীন দাবি যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, তা বোঝাতেই মধ্যরাতেই  বিবৃতি দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক।