লাদাখ নিয়ে চিনের দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিনের অস্বীকার করার ফলে বাস্তবটা বদলে যাবে না।
লাদাখ নিয়ে চিনের ক্রমাগত দাবির কড়া জবাব দিল ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের স্থায়ী এবং সার্বভৌম অংশ। বাইরের কারও আপত্তি একেবারেই ভিত্তিহীন।
ভারতের নতুন ম্যাপ নিয়ে সোজাসাপটা জবাব
ভারতের নতুন ম্যাপ আপডেট নিয়ে বেজিং আপত্তি তোলার পরেই এই কূটনৈতিক তরজা শুরু হয়। চিনের বিবৃতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা আবারও স্পষ্ট করে দিচ্ছি যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন যতই অস্বীকার করুক না কেন, এই প্রতিষ্ঠিত সত্যটা কিছুতেই বদলাবে না।"
সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে লাদাখের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং ভৌগোলিক স্থানের নাম সরকারি ম্যাপে নির্দিষ্ট করা হয়। আর এর পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
ভারত-চিন বিবাদ
এই ঘোষণার পর চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং দাবি করেন, বেজিং নাকি কখনোই এই অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাঁর অভিযোগ, ভারত একতরফাভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর বিরোধিতা করে মাও বলেন, "এই পদক্ষেপ বেআইনি এবং বাতিলযোগ্য। চিন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম সেক্টরের ওই এলাকাগুলো যে সবসময় চিনেরই ছিল, সেই সত্যটা এতে বদলাবে না।"
বেজিংয়ের এই প্রতিবাদ উড়িয়ে দিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সরকারি বিবৃতিতেই সবটা পরিষ্কার। জয়সওয়াল জানান, লাদাখের ২৮টি নির্দিষ্ট জায়গা এবং ভৌগোলিক স্থানকে চিহ্নিত করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া'-র সরকারি ম্যাপে এই জায়গাগুলোর নির্দিষ্ট নাম থাকবে।
মুখপাত্রের কথায়, লাদাখের স্থানীয় প্রশাসন এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরেই এই ভৌগোলিক নামগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, "বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে লাদাখের ২৮টি জায়গা বা স্থানকে সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি ম্যাপে নির্দিষ্ট নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। লাদাখ প্রশাসন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেই এটা করা হয়েছে। সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ম্যাপে এই জায়গাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার মূল উদ্দেশ্য হল, সাধারণ মানুষ যাতে এগুলোকে ঠিকমতো চিনতে পারেন এবং তাঁদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে।"
গত ২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ম্যাপ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর গোগরা এবং হট স্প্রিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের জায়গাগুলোও রয়েছে। প্যাংগং হ্রদের কাছে সংঘর্ষের পর ২০২০ সালের সামরিক উত্তেজনার সময় এই জায়গাগুলো বেশ খবরের শিরোনামে ছিল। এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পরিচিত জায়গাও রয়েছে এই তালিকায়।
এই জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিংগাল পাস, কনিষ্ক পিক, কারুন পীর পর্বত, কুকসেল, মার্তণ্ড গিরি, পারপিক হিমবাহ, স্কামরি হিমবাহ, শাচমিরিক পাস, শ্কোরগা উপত্যকা, জোরাওয়ার পিক, ডেবরা কম্পাস, দ্রাক কার্পো, জোলমোরি, কুমারায়ণা পয়েন্ট, প্যাংলুং, রিনচেন জাংপো, শাক্যশ্রী গিরি, গুরু রিনপোচে, শামাল লুংপা, ইয়াংপা নদী, মারপা লোটসাভা রি, মিলারেপা কাংরি, শিবা রি এবং মহেশ্বরা রি।


