গত কয়েক বছর ধরেই ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের ক্রমে উন্নতি ঘটছিল। এর মধ্যে চিন সাধারণ শত্রু হিসাবে উঠে আসায় দুই দেশ আরও কাছাকাছি এসেছে। সম্পর্কের এই রসায়ন আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই মঙ্গলবার দিল্লিতে দুই পক্ষের মধ্যে 'টু  প্লাস টু' বৈঠক হল। অর্থাৎ, দুই পক্ষের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৈঠকে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও চিনকে যে কোনও দেশের 'স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি' বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রতিহত করতে হবে চিনা কমিউনিস্টদের হুমকি

মাইক পম্পেও বলেছেন, ভারত ও আমেরিকার মতো দুটি 'দুর্দান্ত গণতন্ত্র' পরস্পরের কাছাকাছি আসছে, এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। দুই পক্ষের মধ্যে অনেকগুলি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা দরকার বলে জানান তিনি। এই বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাস মহামারি, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির দিক থেকে আসা স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাজনিত হুমকি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

নতুন মাত্রা উন্মুক্ত করল বিইসিএ চুক্তি

এদিনের বৈঠকে বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কোঅপারেশন চুক্তি বা বিইসিএ চুক্তি সাক্ষর করেছে দুই দেশ। এই চুক্তির বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতে দুইদেশ একমত হওয়ার জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানিয়েছেন নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে এই চুক্তি নতুন মাত্রা উন্মুক্ত করবে।

কঠিন সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব

তিনি আরও বলেন, কোভিড মহামারিতে ভারত ও আমেরিকা দুই দেশেরই অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে। শীঘ্রই দুই দেশই শিল্প ও অন্যান্য পরিষেবাগুলির ক্ষতি মেটাবার চেষ্টা করবে। এই কঠিন সময়েই দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই পক্ষই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।

বিইসিএ কী?

এটি একটি  প্রতিরক্ষা চুক্তি। এর ফলে আমেরিকা ও ভারতের সামরিক বাহিনী নিজেদের মধ্যে উচ্চ-সামরিক প্রযুক্তি, রসদ এবং ভূ-স্থানিক মানচিত্র ও সংবেদনশীল ভৌগলিক অঞ্চলের তাত্ক্ষণিক তথ্য ভাগ করে নেবে। সামরিক সরঞ্জামের লেনদেন এবং সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার জন্য চারটি মূল চুক্তির মধ্যে একটি হল বিইসিএ, এমনই বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা।