‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় পাকিস্তানকে মদত দেওয়ায় চিনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে, তাদের আন্তর্জাতিক সম্মান নিয়ে ভাবা উচিত। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ছড়ানো একটি ভুয়ো ভিডিও নিয়েও মুখ খুলেছে ভারত, যেখানে ভারতীয় সেনার ক্ষয়ক্ষতির মিথ্যা দাবি করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ায় চিনের বিরুদ্ধে সরব ভারত
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানকে মদত দেওয়ার অভিযোগে চিনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, যে সব দেশ "সন্ত্রাসী পরিকাঠামো রক্ষা" করার চেষ্টা করে, তাদের ভেবে দেখা উচিত আন্তর্জাতিক মহলে তাদের সম্মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই কড়া বার্তা দেন। পহেলগামের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই সময় চিন পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল বলে খবর সামনে আসে। এই বিষয়েই মুখ খোলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, "আমরা এই সংক্রান্ত রিপোর্ট দেখেছি, যা আগে থেকেই জানা ছিল।" তিনি আরও যোগ করেন, "যারা নিজেদের দায়িত্বশীল দেশ বলে মনে করে, তাদের ভেবে দেখা উচিত যে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো রক্ষায় সাহায্য করলে তাদের সুনাম এবং অবস্থানের উপর কী প্রভাব পড়ে।"
‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পাকিস্তানের ভুয়ো প্রচার
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযানের কথাও স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, "'অপারেশন সিঁদুর' ছিল পহেলগামের সন্ত্রাসবাদী হামলার একটি সুনির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত জবাব। এর মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান থেকে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করা।"
সম্প্রতি ৭ মে ভারত এই অপারেশনের প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করেছে। এই অভিযানকে আধুনিক যুদ্ধের এক অন্যতম সেরা উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ২৬ জন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল। এর জবাবেই ভারত এই সামরিক অভিযান চালায়, যা টানা ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলেছিল। এই অভিযানের বর্ষপূর্তির আবহে পাকিস্তান মরিয়া হয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের ভুয়ো ভিডিও ছড়াচ্ছে পাকিস্তান
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র ফ্যাক্ট চেক ইউনিট একটি ডিজিটালভাবে তৈরি করা ভিডিও নিয়ে সকলকে সতর্ক করেছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন propaganda হ্যান্ডেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ এই ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে। ভিডিওটিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের ছবি ব্যবহার করে ভারতীয় সেনার ক্ষয়ক্ষতি এবং জলনীতি নিয়ে ভুয়ো দাবি করা হচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া ক্লিপটিতে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, জয়সওয়াল বলেছেন ভারতের চারটি রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং এরপর "পাকিস্তানের জল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।" PIB এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট জানিয়েছে, "ভিডিওটি ভুয়ো এবং ডিজিটালভাবে বিকৃত করা হয়েছে।" সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, "বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এমন কোনও বিবৃতি দেননি।"
ডিপফেক প্রচার নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান
ভুয়ো খবর খণ্ডন করতে PIB আসল ভিডিওটিও প্রকাশ করেছে, যাতে সাধারণ মানুষ সত্যিটা যাচাই করতে পারেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দেশের আন্তর্জাতিক সম্মানহানি করার এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। PIB-র পরামর্শ, "এই ধরনের বিকৃত ভিডিও বিশ্বাস করবেন না। সর্বদা শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন।"
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সীমান্তপার মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে ডিপফেক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, বিশেষ করে যখন সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকে। ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার 'জিরো-টলারেন্স' নীতিতে অটল। আধিকারিকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে শুধুমাত্র সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যকেই যেন বিশ্বাস করা হয়।


