ভারত-চিন সীমান্ত উত্তাপ কমাতে চতুর্থ দফার বৈঠকে বসেছিল দুই দেশের সেনা আধিকারিকরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ বৈঠক শুরু হয়েছিল। ১৫ ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন বৈঠক শেষ হয়েছিল বুধবার ভোর চারটে নাগাদ। লাদাখের চুসুলের  এই বৈঠকে পরই সীমান্ত এলাকায়  সেনা সরানোর বিষয়ে কিছুটা হলেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে বলেই সেনা সূত্রের খবর। 

লাদাখ সীমান্ত বিরোধ মিমাংসায় কেন্দ্রীয় সরকার যে উচ্চশক্তি সম্পন্ন চায়না স্টাডি গ্রুপ বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চুসুলের ম্যারাথন বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে। সূত্রের খবর আলোচনা হয়েছে জিনজিয়াং-এর সামরিক তৎপরতা নিয়েও। এই বৈঠকে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও সংশ্লিষ্ট অধিকর্তারা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গালওয়ান সেক্টর (পেট্রোলিং ১৪) থেকে ইতিমধ্যেই সেনা সরিয়ে নিয়েছে চিন। প্যাংগং-এর ১৫ নম্বর পেট্রোল পয়েন্টসহ চার ও পাঁচ নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্ট থেকেও কিছুটা হলে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

কপার্স কমান্ডারদের বৈঠকেই ১৫ নম্বর পেট্রোল পয়েন্ট ও প্যাংগং লেক থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় আধিকারিকদের মতে ৪ নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্টে দুই দেশের সেনা বাহিনী এখনও পর্যন্ত উপস্থিত রয়েছে। দুই দেশই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা  নিয়েছে। অন্যদিকে চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা ৫ নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্ট থেকে কিছুটা হলেও সরে গেছে। তবে ৬ নম্বর ফিঙ্গারে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। 

এপ্রিল থেকে লাদাখে বেড়েছিল লালফৌজের তৎপরতা, গোয়েন্দা রিপোর্ট কি পৌঁছায়নি সরকারের ঘরে ...

জয়ের পরেও অশোক গেহলটের 'গলার কাঁটা' শচীন পাইলট, রাহুল না জ্যোতিরাদিত্য কাকে বাছবেন বিদ্রোহী নেতা .

এক কর্মকর্তার কথায় সেনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে মনে করা হচ্ছে পূর্ব লাদাখ সীমান্ত কিছুটা হলেও সীমান্ত উত্তাপ কমতে চলেছে। চিনা সেনা ২০ এপ্রিলে যে জায়গায় ছিল সেই জায়গায় ফিরে যাওার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেই মনে করেছে সেনা বাহিনীর এক কর্তা। হটস্প্রিং এলাকায় চিনা ইতিমধ্যেই সমর যান, তাঁবু সরিয়ে নিয়েছে। 

আত্মনির্ভর ভারতের পথে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে রোপসো, রীতিমত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে টিকটককে ...

গোগরায় মাত্র ৩০ জন লালফৌজ উপস্থিত ছিল। সেই সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সপ্তাহশেষে তাদের সরাতে হবে বলেই ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে একটি সূত্র জানাচ্ছে চিনা সেনা সরে গেলেও লাদাখের ১৫৯৭ কিলোমিটার ও অরুণাচলের ১১২৭ কিলোমিটার সীমান্তে রীতিমত নজরদারি চালাচ্ছে ভারত। 
লাদাখের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শারীরিক ও প্রযুক্তিগত ভাবে নজর রাখা হচ্ছে চিনের সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও।