গত ১৫ জুন সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকেই ক্রমে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। যদিও দুই দেশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী বলেই বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে। সামরিক পর্যায়ে বৈঠকও হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তবে তাতে সমাধান সূত্র অধরাই। বৈঠকে সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর কথা বললেও কার্যক্ষেত্রে তা করছে না বেজিং। চিনের এই দ্বিচারিতা যে ভারত বরদাস্ত করবে না, তা শুক্রবার লাদাখ সফরে গিয়ে সেনাকে পাশে নিয়ে ফের একবার হুঙ্কার ছেড়ে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শুক্রবার সকালে সকলকে অবাক করে দিয়েই লাদাখে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এটিকে চিনের ওপর চাপ বাড়াতে মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। প্রধানমন্ত্রী সফর থেকে ফিরতেই সৈন্যসংখ্যা লাদাখে আরও একপ্রস্থ বাড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনা। 

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নিয়মিত বৈঠক চললেও সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিনের লাল ফৌজের সংস্থা বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় চিনকে জবাব দিতে ভারত এবার আরও এক ডিভিশন সেনা সেখানে পাঠিয়ে দিল। লাদাখে এরআগে একসঙ্গে এত সোনা মোতায়েন অতীতে কখনও দেখা যায়নি।

মে মাসের আগে লাদাখে মাত্র এক ডিভিশন সেনা মোতায়েন ছিল। এক-একটি ডিভিশনে থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার সেনা। শুক্রবার নতুন করে সেনা মোতায়েন করায় বর্তমানে লাদাখে মোট চার ডিভিশন সেনা মোতায়েন রাখল ভারত। ফলে বর্তমানে লাদাখে ভারতীয় সেনা এখন রয়েছে প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি। তবে কেবল সেনা নয়, চিনকে চাপে রাখতে সমরাস্ত্র ও যুদ্ধের সরঞ্জামও বাড়িয়ে চলেছে ভারতীয় বাহিনী। 

শুক্রবার সেনার মনোবল বাড়াতে লাদাখে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গালওয়ান উপত্যকায় যেখানে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছিলেন তার অদূরে দাঁড়িয়েই চিনকে কড়া বার্তা দেন নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সকালে লাদাখের লে বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে করে মোদী যান ১১ হাজার ফুট উঁচু নিমুতে। সেখানেই সেনাকর্তাদের সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি । তার পর ভারতীয় সেনাদের উদ্দেশে মোদী বলেন, 'শান্তির জন্য শক্তি জরুরি। যাঁরা দুর্বল, তাঁরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। শান্তির পূর্ব শর্ত হল, শক্তি।'  মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের উল্লেখ করে মোদী বলেন, 'ভারত শান্তির লক্ষ্য নিয়ে চলছে। কিন্তু প্রয়োজনে দেশকে রক্ষা করতে পরাক্রম দেখাতেও পিছপা হবে না।'

নিমুতে মোদীর এই কড়া বার্তার পরেই ভারত আরও সেনা বাড়িয়ে দিল। সূত্রের খবর, এলএসি বরাবর গত কয়েক দিনে প্রচুর সেনা জমায়েত করিয়েছে চিন। তার জন্যই ভারতকেও এভাবে সেনা বাড়াতে হচ্ছে। লাদাখে চিনের সঙ্গে ভারতের ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। যারা শুরু কারাকোরাম পাস থেকে আর শেষ হয়েছে দক্ষিণ লাদাখের চুমুরে।

এলএসি'র প্রথম অংশ কারাকোরাম পাস থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি, দেপসাং সমভূমি, গলওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং লেক, ডেমচোক, কোয়েল এবং চুমুর পর্যন্ত চারদিক থেকে লালফৌজের আগ্রাসনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় অবস্থায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এলএসির কোনও অংশ উন্মুক্ত রাখতে চায় না। তাই প্রায় ৮০ হাজার ভারতীয় সেনা চিনকে সবক শেখাতে এখন প্রস্তুত।