লাদাখে লাল ফৌজের আগ্রাসী মনোভাব বর্তমান। এর মাঝেই মস্কোতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের পর সেই একসুর চিনের গলায়। সীমান্তে উত্তেজনার জন্য ভারতকে দায়ী করেই বিবৃতি দিয়েছে বেজিং। আর এই পরিস্থিতিতেই চিনকে মানবিকতার শিক্ষা দিল ভারতীয় সেনা। 

উত্তর সিকিমে রাস্তা হারিয়ে ফেলা চিনা নাগরিকদের পাশে দাঁড়ালেন ভারতীয় জওয়ানরা। চিনা নাগরিকদের খাবার ও ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক রাস্তা খুঁজতেও সাহায্যে করেছে এদেশের বীর জওয়ানরা। আর এভাবেই বিশ্বমঞ্চে আরও একবার সৌজন্যের সেরা নজিরটি গড়ে ফেলল ভারতীয় সেনা। জানা যাচ্ছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাস্তা হারিয়ে উত্তর সিকিমের মালভূমি অঞ্চলে পৌঁছে যান  তিন জন চিনা নাগরিক। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এলাকায় পথ হারিয়ে তাঁরা ভারতের দিকে চলে আসেন। সেখান থেকে পথ হারিয়ে ফেলা তিন চিনা নাগরিককে উদ্ধার করল ভারতীয় সেনা। প্রথমে চিনা নাগরিকদের রাস্তা আটকায়  ভারতীয় সেনা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পথ হারানো চিনা নাগরিকদের সাহায্য করেন জওয়ানরা। তাঁদের গরম কাপড়, খাবার, ওষুধ এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়া হয়। সুস্থ হয়ে উঠলে, ওই নাগরিকদের প্রকৃত রাস্তা বুঝিয়ে দেন ভারতীয় সেনা জওয়ানরা।

 

 

পথ হারানো চিনা নাগরিকদের মধ্যে  দু'জন পুরুষ, একজন মহিলা ছিলেন। এই অস্থির সময়েও ভারতীয় সেনার তরফে এমন ব্যবহার পেয়ে অভিভূত ওই তিন চিনা নাগরিকই। এই সহায়তার জন্য তাঁরা ভারতীয় সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: চিনে থেকে ভারতে ব্যবসা সরাতে ভর্তুকির টোপ, বেজিংকে এবার বড়সড় ঝটকা দিল জাপান

লাদাখে যখন লালচক্ষু দেখাচ্ছে চিনাফৌজ ঠিক তখন মানবকিতার শিক্ষা দিল ভারতীয় জওয়ানরা। তাঁরা বুঝিয়ে দিলেন আগ্রাসন নয় মানবধর্মে বিশ্বাসী ভারত। সেরকম হতে চিনা নাগরিকদের হাতের কাছে পেয়ে তাঁদের উপর নির্যাতন করতে পারতেন জওয়ানরা। কিন্তু সেটা তাঁরা করেননি। উল্টে তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে সাহায্য করেছেন। যদিও নিচের চরিত্র বদলায়নি চিন। অরুণাচল প্রদেশ থেকে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে  চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বিরুদ্ধে। 

আরও পড়ুন: বদলালো না সাম্রাজ্যবাদী চিন, বৈঠক শেষ হতেই সীমান্ত সমস্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে বিবৃতি বেজিংয়ের

অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবর্ণসিরি জেলা থেকে ৭ জন ভারত-চিন সীমান্তে অবস্থিত অরণ্যে শিকার ধরতে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁদের ৫ জনকে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ অপহৃতদের পরিবারের। দলে মোট ৭ জন থাকলেও ২ জন পালিয়ে আসতে পেরেছেন। সম্পূর্ণ বিষয়টি তারাই পুলিশকে জানিয়েছে। ইতিমধ্যে অপহৃতদের খুঁজতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ।

চিনা সেনার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত মার্চেই আসাপিলা সেক্টরের ম্যাকমোহন লাইনের কাছ থেকে ২১ বছরের এক যুবককে অপহরণের অভিযোগ ওঠে লালফৌজের বিরুদ্ধে। ১৯ দিন পর তাঁকে চিনা সেনারা মুক্তি দেয়।