গুরেজ ভ্যালিতে একটি হিমালয়ান ভালুকের মুখে চার দিন ধরে আটকে ছিল টিনের কৌটো। খেতে না পেয়ে প্রাণীটির অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। খবর পেয়ে ভারতীয় সেনা এবং বন্যপ্রাণী দপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে ভালুকটিকে উদ্ধার করে। আপাতত পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে তার চিকিৎসা চলছে।

মুখে টিনের কৌটো আটকে যাওয়ায় চার দিন ধরে কার্যত না খেতে পেয়ে কষ্ট পাচ্ছিল একটি গ্রেট হিমালয়ান ভালুক। অবশেষে ভারতীয় সেনার জওয়ানরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বান্দিপোরা জেলার গুরেজ ভ্যালিতে। নিয়ন্ত্রণ রেখার (LoC) খুব কাছে খাপুরি গ্রামে ওই অসহায় ভালুকটিকে দেখা যায়। কৌটো আটকে থাকায় ভালুকটি ঠিকমতো খেতে বা জল পান করতে পারছিল না, ফলে তার অবস্থা ক্রমশ গুরুতর হয়ে উঠছিল।

<blockquote="class twitter-tweet"=""></blockquote="class>

Indian Army personnel in Gurez rescued a Himalayan bear found with a tin container stuck over its mouth. pic.twitter.com/Xmb8oXfZhY

— DD NEWS SRINAGAR (@ddnewsSrinagar) August 12, 2026

আটকে থাকা ভালুকের খোঁজে সেনার তল্লাশি

ভালুকটির খবর পাওয়ার পরেই সেনার জওয়ানরা বন্যপ্রাণী দপ্তরের সঙ্গে মিলে একটি তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না। কারণ এলাকাটা ছিল খুবই দুর্গম আর এবড়োখেবড়ো পাহাড়ি।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর জওয়ানরা প্রাণীটিকে খুঁজে পান। তাঁরা খুব সাবধানে ভালুকটির কাছে গিয়ে মুখ থেকে টিনের কৌটোটি খুলে দেন। অবশেষে চার দিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায় ভালুকটি।

এই উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা সেনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ভালুকটির জন্য এটা নিশ্চয়ই খুব ভয়ের ছিল, আশা করি ও তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।

Scroll to load tweet…

আরেকটি পোস্টে সেনার প্রশংসা করে বলা হয়েছে, সেনা শুধু দেশের সীমান্ত রক্ষা করে না, তারা বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার জন্যও কাজ করে।

Scroll to load tweet…

ভালুকের চিকিৎসার ব্যবস্থা

উদ্ধারের পর ভালুকটিকে বন্যপ্রাণী দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভালুকটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

চার দিন ধরে না খেতে পাওয়ার কারণে প্রাণীটি দুর্বল বা আহত হতে পারে। তাই জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে তার সম্পূর্ণ ডাক্তারি পরীক্ষা জরুরি। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পশু চিকিৎসকরা ফিট সার্টিফিকেট দিলেই ভালুকটিকে আবার তার স্বাভাবিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।

মানুষের ফেলে দেওয়া কৌটো বা অন্যান্য আবর্জনা যে খাবারের খোঁজে আসা বন্যপ্রাণীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাটি সেটাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে সেনার জওয়ানরা যেভাবে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেছেন, তার প্রশংসা করছেন সকলেই। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, সহানুভূতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, অসহায় বন্যপ্রাণীদের প্রতিও দেখানো যায়।