Lungi Walla Remark সংসদ চলাকালীন আমজনতার সমস্যা তুলে ধরা কিংবা তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক প্রত্যক্ষ করাই দস্তুর। কিন্তু সেই রাজ্যসভার ভিতরেই এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে শুরু হল তুমুল হইচই।মেজাজ হারিয়ে সতীর্থ সাংসদের বিরুদ্ধে কটাক্ষের অভিযোগ তুললেন জন ব্রিটাস।

সংসদ চলাকালীন আমজনতার সমস্যা তুলে ধরা কিংবা তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক প্রত্যক্ষ করাই দস্তুর। কিন্তু সেই রাজ্যসভার ভিতরেই এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে শুরু হল তুমুল হইচই ও বাদানুবাদ। মেজাজ হারিয়ে সতীর্থ মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে সরাসরি বর্ণবিদ্বেষী ও আঞ্চলিকতাবাদী কটাক্ষের অভিযোগ তুললেন সিপিএম (CPIM) সাংসদ জন ব্রিটাস। তাঁর দাবি, রাজ্যসভার ভেতরেই বিজেপি থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব তাঁকে উদ্দেশ্য করে বারবার 'লুঙ্গিওয়ালা, বলে সম্বোধন করেছেন এবং সংসদীয় কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে উচ্চকক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিষেন রিজিজুকে।

ঠিক কী ঘটেছিল রাজ্যসভায়?

কমিটি কক্ষ ও সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ অধিবেশন চলাকালীন দুই সাংসদের বাকবিতণ্ডা ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। রাজ্যসভার সিপিএম সদস্য জন ব্রিটাস অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ, সংসদীয় দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। সুস্মিতা দেব নাকি তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিকবার 'লুঙ্গিওয়ালা' শব্দটি ব্যবহার করেন। জন ব্রিটাস উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ''উচ্চকক্ষে নিজের দায়িত্ব পালন করার সময়েই আমাকে উদ্দেশ্য করে এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে। এক জন সহ-সাংসদের এই আচরণ অত্যন্ত অবমাননাকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'' এই অভিযোগের পরই রাজ্যসভায় বিরোধী ও শাসক শিবিরের সাংসদদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

সমতার পাঠ মন্ত্রী রিজিজুর, সুর চড়ালেন সমতার প্রশ্নে

ঘটনা ঘিরে হইচই ও চরম হট্টগোল শুরু হলে বিতর্ক সামাল দিতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিষেন রিজিজু। তিনি সমস্ত সদস্যকে সংযম বজায় রাখার আবেদন জানান। একই সঙ্গে রিজিজু বলেন,''এই কক্ষে বা ভারতের সংসদীয় গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় প্রতিটি সদস্য সমান মর্যাদা পান। এখানে কেউ কারও থেকে আলাদা বা ছোট নন। আমরা সকলেই সমান এবং প্রথমে ভারতীয়।''তিনি অধ্যক্ষ ও সভানেত্রীর কাছে অনুরোধ জানান, সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং তথ্যপ্রমাণ যাচাই করেই যেন পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যে কক্ষের পরিপন্থী, তা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

সংসদের মর্যাদা ও এক জন প্রতিনিধির আত্মসম্মানের প্রশ্ন তুলে ব্রিটাস যে ভাবে সোচ্চার হয়েছেন, তাতে স্পষ্ট, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সদস্যদের পোশাক ও আঞ্চলিক পরিচয় নিয়ে কটাক্ষের বিষয়টি সংসদীয় রাজনীতির অন্দরে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখে বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।