শত্রুর উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও এবং তারা প্রক্সি যুদ্ধ ও অনুপ্রবেশের মতো ঘৃণ্য কৌশল চালিয়ে গেলেও, যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
শত্রুর উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও এবং তারা প্রক্সি যুদ্ধ ও অনুপ্রবেশের মতো ঘৃণ্য কৌশল চালিয়ে গেলেও, যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে ভারতের বিজয় নিশ্চিতকারী বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁদের প্রদর্শিত সাহস, দৃঢ় সংকল্প এবং দেশপ্রেম আজও সেনাবাহিনী ও সমগ্র দেশকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে রাজনাথ সিং বলেন, দেশের বীর জওয়ানদের দেশপ্রেম ও দৃঢ় সংকল্প অটুট থাকা পর্যন্ত ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস কারও নেই। তিনি আরও বলেন, তাঁদের সাহসিকতার কারণেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ ও বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
‘বারাখানা’ (যৌথ ভোজ)-র সময় জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “কার্গিল বিজয়ের কথা স্মরণ করে আমরা যেমন গর্ববোধ করি, তেমনই আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো কিন্তু কমে যায়নি।” তিনি সৈনিকদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান যে সেনাবাহিনীকে বিশ্বমানের অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণে সজ্জিত করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের উপর নিরন্তর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানোর করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন মন্ত্রী এবং উল্লেখ করেন যে, তাঁদের বীরত্ব ও নিষ্ঠার কাহিনী কেবল জাতীয় স্তরেই নয়, বরং বিশ্বজুড়েও স্বীকৃত। তিনি বলেন, “এই শতাব্দী আমাদের। ভবিষ্যৎ আমাদের। আত্মনির্ভরতার পথে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, তার উপর ভিত্তি করে আমি নিশ্চিত যে আগামী দিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সেরা বাহিনীতে পরিণত হবে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) সকালে দুদিনের সফরে শ্রীনগরে পৌঁছন। জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট-গভর্নর মনোজ সিনহা তাঁকে স্বাগত জানান। কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন—বিশেষ করে তিন দিন আগে অনন্তনাগে যে হামলায় এক পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে। পরবর্তীতে, ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবসের প্রাক্কালে লাদাখের দ্রাসে অবস্থিত যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন। ‘শৌর্য সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্গিল যুদ্ধে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ উৎসর্গকারী সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সেখানে রাজনাথ বলেন, “এই আত্মত্যাগই ভারতের জনগণকে নিরাপদ বোধ করায়। ১৯৯৯ সালে যখন অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছিল, তখনও বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সেনাদের বন্দুক নীরব হয়নি। আমরা সেই বীর সেনা এবং তাঁদের অসীম সাহসিকতা নিয়ে গর্বিত।” তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিশ্চিত করেছেন যেন সেনাদের মনোবল সর্বদা অটুট থাকে। তিনি আরও বলেন, “আমরা সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ করছি। আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাহিনী হিসেবে দেখার ব্যাপারে আশাবাদী।”