ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করতে ৮ থেকে ১০ এপ্রিল আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফরের পরই মিসরির এই সফর।
বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি ৮ থেকে ১০ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
বিদেশ মন্ত্রক একটি সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, "বিদেশ সচিবের ওয়াশিংটন ডিসি সফরের ফলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "এই সফরে বিদেশ সচিব মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত এমন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসবে।"
উল্লেখ্য, এই সফরের ঠিক আগেই ফেব্রুয়ারিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটন ডিসি সফর করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেরই একটি অংশ হলো মিসরির এই সফর।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তৎপরতা
এই মুহূর্তে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-ও আমেরিকায় রয়েছেন। তিনি সেখানে ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন क्वाত্রার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
আমেরিকা সফরে গিয়ে গোর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেলের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এদিকে, আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে গোরের। ঠিক এই সময়েই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
ট্রাম্প-মোদী বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে
এর আগে স্প্যান ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোর বলেছিলেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একজন সত্যিকারের বন্ধু বলে মনে করেন। তাঁদের এই অকৃত্রিম সম্পর্ক দুই দেশের বন্ধনকে আরও মজবুত করে।
সাক্ষাৎকারে গোর আরও বলেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং পারস্পরিক লাভজনক লক্ষ্যগুলির দিকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া একটি বিরাট সম্মানের বিষয়।


